ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নারীদের প্রতি হুমকিদাতাদের ‘অমানব’ আখ্যা জামায়াত আমিরের, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা প্রকাশ্যে নারীদের প্রতি অশালীন মন্তব্য বা কাপড় খুলে ফেলার মতো জঘন্য হুমকি দেয়, তারা মানব প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি এমন ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে এ ধরনের মনোভাব পোষণ করে, নির্বাচনের পরে তাদের আচরণ কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল-এর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একইসাথে তিনি একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ৫ আগস্টের আগে ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশ ভিন্ন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময়ে সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির দম্ভ, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছে। মা-বোনদের ইজ্জত ক্ষুণ্ন হতে দেখা গেছে এবং যুবকদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় একটি নির্দিষ্ট পরিবার, গোষ্ঠী বা দল ছাড়া বাকি সবাই নিজেদের দেশের ভাড়াটিয়া মনে করতে বাধ্য হতেন।

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, যারা মা-বোনদের রাস্তায় দেখলে কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয়, তারা কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তারা মানব প্রজাতির নয়। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচনের পূর্বে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলতে পারে, তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে প্রারম্ভিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সকালের সূর্য যেমন দিনের পূর্বাভাস দেয়, তেমনই তাদের কথা তাদের জাতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি তারা নিজেদের সংশোধন না করে এবং মায়েদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার মতো হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে মায়ের সন্তানেরা নীরব থাকবে না।

জামায়াত আমির দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আসমানের নিচে ও জমিনের উপরে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান ও আঠারো কোটি মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। তিনি বস্তাপচা রাজনীতি ও এর বন্দোবস্ত আর চলতে দেবেন না উল্লেখ করে বলেন, এ পঁচা রাজনীতিকে এখন লাল কার্ড দেখানো হবে। যারা দেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, খুন করেছে, বিদেশে বেগমপাড়া বানিয়েছে এবং দেশের মানুষকে বিপদে ফেলেছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান তার দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ তারা বাংলাদেশকে প্রকৃত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। এমন একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে, কর্মস্থলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন। তিনি বলেন, যুবকদের হাত বেকার রাখতে চান না এবং বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করতে চান না; বরং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আঠারো কোটি মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং ন্যায়সঙ্গত ভিত্তিতে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। জামায়াত আমির এমন কোনো অলীক অঙ্গীকার করবেন না যা বাস্তবায়ন সরকারের সামর্থ্যের বাইরে। তবে তিনি বলেন, যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন জনগণের অধিকার, সন্তানদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং যারা সারা জীবন রাষ্ট্র ও সমাজকে দিয়ে গেছেন, বৃদ্ধ বয়সে তাদের দায়িত্ব পালন—এগুলো সবই সরকারের দায়িত্ব হবে। বিশেষ করে, ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, কারণ একটি জাতিকে সুস্থ ও সবল করা না গেলে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

নারীদের প্রতি হুমকিদাতাদের ‘অমানব’ আখ্যা জামায়াত আমিরের, নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা প্রকাশ্যে নারীদের প্রতি অশালীন মন্তব্য বা কাপড় খুলে ফেলার মতো জঘন্য হুমকি দেয়, তারা মানব প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি এমন ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে এ ধরনের মনোভাব পোষণ করে, নির্বাচনের পরে তাদের আচরণ কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল-এর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একইসাথে তিনি একটি বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ৫ আগস্টের আগে ৫৪ বছর ধরে বাংলাদেশ ভিন্ন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময়ে সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির দম্ভ, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছে। মা-বোনদের ইজ্জত ক্ষুণ্ন হতে দেখা গেছে এবং যুবকদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় একটি নির্দিষ্ট পরিবার, গোষ্ঠী বা দল ছাড়া বাকি সবাই নিজেদের দেশের ভাড়াটিয়া মনে করতে বাধ্য হতেন।

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, যারা মা-বোনদের রাস্তায় দেখলে কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয়, তারা কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তারা মানব প্রজাতির নয়। তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচনের পূর্বে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলতে পারে, তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে প্রারম্ভিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সকালের সূর্য যেমন দিনের পূর্বাভাস দেয়, তেমনই তাদের কথা তাদের জাতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি তারা নিজেদের সংশোধন না করে এবং মায়েদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার মতো হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে মায়ের সন্তানেরা নীরব থাকবে না।

জামায়াত আমির দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আসমানের নিচে ও জমিনের উপরে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান ও আঠারো কোটি মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। তিনি বস্তাপচা রাজনীতি ও এর বন্দোবস্ত আর চলতে দেবেন না উল্লেখ করে বলেন, এ পঁচা রাজনীতিকে এখন লাল কার্ড দেখানো হবে। যারা দেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, খুন করেছে, বিদেশে বেগমপাড়া বানিয়েছে এবং দেশের মানুষকে বিপদে ফেলেছে, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান তার দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ তারা বাংলাদেশকে প্রকৃত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। এমন একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে, কর্মস্থলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন। তিনি বলেন, যুবকদের হাত বেকার রাখতে চান না এবং বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করতে চান না; বরং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, আঠারো কোটি মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং ন্যায়সঙ্গত ভিত্তিতে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। জামায়াত আমির এমন কোনো অলীক অঙ্গীকার করবেন না যা বাস্তবায়ন সরকারের সামর্থ্যের বাইরে। তবে তিনি বলেন, যখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন জনগণের অধিকার, সন্তানদের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং যারা সারা জীবন রাষ্ট্র ও সমাজকে দিয়ে গেছেন, বৃদ্ধ বয়সে তাদের দায়িত্ব পালন—এগুলো সবই সরকারের দায়িত্ব হবে। বিশেষ করে, ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে, কারণ একটি জাতিকে সুস্থ ও সবল করা না গেলে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।