ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীতে দম্পতি নির্যাতন ও চাঁদাবাজি: চক্রের মূল হোতা ‘ভাইরাল মামুন’ গোয়েন্দা জালে

নীলফামারীতে এক দম্পতিকে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ভাইরাল মামুন’ ওরফে মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চড়াইখোলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ২৫ বছর বয়সী মামুন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের মূল হোতা মামুন শেখ তার সহযোগীদের নিয়ে দিনের বেলায় প্রকাশ্য স্থানে দম্পতিকে আটকে রেখে মারধর, যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে নীলফামারী পৌরসভার বড় মাঠের পূর্ব পাশে তাপস রায় (২২) ও তাঁর স্ত্রী আশা রায় (১৯) কথা বলছিলেন। সে সময় মামুন শেখের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটকে রাখে এবং পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দম্পতি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা তাপস রায়কে বেদম মারধর করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। এ সময় আশা রায় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। পরে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই দম্পতিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুতই তা ভাইরাল হয়ে যায়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন জঘন্য ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। জনমনে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়ার।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারীর পুলিশ সুপার দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এসআই (নিঃ) রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন কবরস্থান এলাকা থেকে মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেন যে, তার নেতৃত্বে এই চক্রটি এর আগেও বড় মাঠ এলাকায় আসা দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

নীলফামারীতে দম্পতি নির্যাতন ও চাঁদাবাজি: চক্রের মূল হোতা ‘ভাইরাল মামুন’ গোয়েন্দা জালে

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীতে এক দম্পতিকে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ভাইরাল মামুন’ ওরফে মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চড়াইখোলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ২৫ বছর বয়সী মামুন নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের মূল হোতা মামুন শেখ তার সহযোগীদের নিয়ে দিনের বেলায় প্রকাশ্য স্থানে দম্পতিকে আটকে রেখে মারধর, যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে নীলফামারী পৌরসভার বড় মাঠের পূর্ব পাশে তাপস রায় (২২) ও তাঁর স্ত্রী আশা রায় (১৯) কথা বলছিলেন। সে সময় মামুন শেখের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাঁদের ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটকে রাখে এবং পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দম্পতি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা তাপস রায়কে বেদম মারধর করে এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। এ সময় আশা রায় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। পরে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই দম্পতিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুতই তা ভাইরাল হয়ে যায়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন জঘন্য ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। জনমনে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়ার।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারীর পুলিশ সুপার দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এসআই (নিঃ) রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন কবরস্থান এলাকা থেকে মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেন যে, তার নেতৃত্বে এই চক্রটি এর আগেও বড় মাঠ এলাকায় আসা দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।