ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগ প্রবণতা: স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙা উত্থান-পতনের নেপথ্যে

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য স্পর্শ করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান এই ধাতুতে অর্থ ঢালছেন। এক আউন্স স্বর্ণের মূল্য প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম করে, এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ ডলারের ঘরও ছুঁয়ে যায়। রূপা ও প্লাটিনামের দামও একই ধারায় বেড়েছে। বাংলাদেশেও প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছিল, যদিও পরবর্তী দুই দিনে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললে মূল্যবান এসব ধাতুর দাম কিছুটা কমে এলেও, গত বছরের তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে অস্থিরতা স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি, বিশেষ করে যেসব দেশকে তিনি অনুকূল মনে করতেন না, তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল এই নীতিকে স্বর্ণের দামের উল্লম্ফনের পেছনে দায়ী করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় অনমনীয়তার প্রতিক্রিয়ায় আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকির পর জানুয়ারিতে স্বর্ণ ও রূপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও, শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়। ক্যাপিটাল ইকনমিক্সের অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেনের মতে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ও আর্থিক নীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এই মূল্যবান ধাতুকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।

ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও ডলারের অস্থিরতা
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনাও স্বর্ণের দামকে আরও উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ডলারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা অধিক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কনীতির ঘোষণার পর ডলারের মূল্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। এমা ওয়াল উল্লেখ করেন, “পৃথিবী যখন অস্থির হয়ে ওঠে, স্বর্ণ তখন তার স্বভাবসুলভ কাজটাই করে—বাণিজ্যিক উত্তেজনা, ভূ-রাজনৈতিক বিভেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে লাফিয়ে দাম বাড়ায়।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, এমনকি ওয়াশিংটনে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নতুন ক্রেতাদের ভূমিকা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমা ওয়াল জানান, বিনিয়োগকারী এবং বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকেই রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ভরতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়। রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ ইউক্রেনের সমর্থক বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দ্বারা বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি কিছু দেশ নিশ্চয়ই পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তারপর থেকেই তারা স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। হামাদ হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি স্বর্ণ কিনছে, যদিও ২০২৫ সালে তাদের চাহিদা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যক্তিগত গহনা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের চাহিদা থেকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বর্ণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে। হোসেন আরও উল্লেখ করেন, টেথার (একটি ডিজিটাল মুদ্রা কোম্পানি) এর মতো নতুন ক্রেতারাও বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কিনছে, যা সাম্প্রতিক নাটকীয় মূল্যবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তাদের মজুত এখন কিছু ছোট দেশের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়।

সাম্প্রতিক মূল্য হ্রাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক দিনে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর একটি কারণ ছিল এই আশঙ্কা যে, ট্রাম্প এমন একজন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে পারেন যিনি সুদের হার কমানোর দাবিতে নতি স্বীকার করবেন। এতে ডলারের দরপতন এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়, যা স্বর্ণকে সুরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে বিবেচিত করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেন, যাকে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে মনে করা হয়, তখন স্বর্ণ, রূপা ও প্লাটিনামের দাম আকস্মিকভাবে কমে যায়।

তবে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিদ্যমান শুল্ক এবং ট্রাম্পের আরও শুল্ক আরোপের হুমকি, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সংঘাতের কারণে মূল্যবান ধাতুর দাম এখনো গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ খুঁজতে থাকা বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ও রূপার আকর্ষণ আগের চেয়েও বেশি। এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বাজার প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, “যখন আপনি স্বর্ণের মালিক হন, এটি কারও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে না—যেমন বন্ড বা শেয়ারে কোম্পানির পারফরম্যান্স এর মান ঠিক করে দেয়। অতি অনিশ্চিত সময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।” সাম্প্রতিক বাজারের অস্থিরতা দেখিয়েছে যে, অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্যের মতোই স্বর্ণের দাম যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমনি দ্রুত কমেও যেতে পারে, তবে এর মৌলিক আকর্ষণ অটুট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগ প্রবণতা: স্বর্ণের দামে রেকর্ড ভাঙা উত্থান-পতনের নেপথ্যে

আপডেট সময় : ০৮:২৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য স্পর্শ করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান এই ধাতুতে অর্থ ঢালছেন। এক আউন্স স্বর্ণের মূল্য প্রথমবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার অতিক্রম করে, এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ ডলারের ঘরও ছুঁয়ে যায়। রূপা ও প্লাটিনামের দামও একই ধারায় বেড়েছে। বাংলাদেশেও প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছিল, যদিও পরবর্তী দুই দিনে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললে মূল্যবান এসব ধাতুর দাম কিছুটা কমে এলেও, গত বছরের তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে অস্থিরতা স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি, বিশেষ করে যেসব দেশকে তিনি অনুকূল মনে করতেন না, তাদের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল এই নীতিকে স্বর্ণের দামের উল্লম্ফনের পেছনে দায়ী করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় অনমনীয়তার প্রতিক্রিয়ায় আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকির পর জানুয়ারিতে স্বর্ণ ও রূপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও, শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়। ক্যাপিটাল ইকনমিক্সের অর্থনীতিবিদ হামাদ হোসেনের মতে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ও আর্থিক নীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এই মূল্যবান ধাতুকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।

ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও ডলারের অস্থিরতা
ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করেছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটক করার ঘটনাও স্বর্ণের দামকে আরও উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ডলারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা অধিক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কনীতির ঘোষণার পর ডলারের মূল্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। এমা ওয়াল উল্লেখ করেন, “পৃথিবী যখন অস্থির হয়ে ওঠে, স্বর্ণ তখন তার স্বভাবসুলভ কাজটাই করে—বাণিজ্যিক উত্তেজনা, ভূ-রাজনৈতিক বিভেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে লাফিয়ে দাম বাড়ায়।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, এমনকি ওয়াশিংটনে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নতুন ক্রেতাদের ভূমিকা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমা ওয়াল জানান, বিনিয়োগকারী এবং বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকেই রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রাধান্য দিচ্ছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে এতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ভরতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়। রাশিয়ার ডলারভিত্তিক সম্পদ ইউক্রেনের সমর্থক বৈশ্বিক শক্তিগুলোর দ্বারা বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়টি কিছু দেশ নিশ্চয়ই পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তারপর থেকেই তারা স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। হামাদ হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি স্বর্ণ কিনছে, যদিও ২০২৫ সালে তাদের চাহিদা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যক্তিগত গহনা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের চাহিদা থেকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্বর্ণভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে। হোসেন আরও উল্লেখ করেন, টেথার (একটি ডিজিটাল মুদ্রা কোম্পানি) এর মতো নতুন ক্রেতারাও বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কিনছে, যা সাম্প্রতিক নাটকীয় মূল্যবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তাদের মজুত এখন কিছু ছোট দেশের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়।

সাম্প্রতিক মূল্য হ্রাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক দিনে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর একটি কারণ ছিল এই আশঙ্কা যে, ট্রাম্প এমন একজন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে পারেন যিনি সুদের হার কমানোর দাবিতে নতি স্বীকার করবেন। এতে ডলারের দরপতন এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়, যা স্বর্ণকে সুরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে বিবেচিত করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেন, যাকে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল বলে মনে করা হয়, তখন স্বর্ণ, রূপা ও প্লাটিনামের দাম আকস্মিকভাবে কমে যায়।

তবে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিদ্যমান শুল্ক এবং ট্রাম্পের আরও শুল্ক আরোপের হুমকি, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সংঘাতের কারণে মূল্যবান ধাতুর দাম এখনো গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ খুঁজতে থাকা বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ও রূপার আকর্ষণ আগের চেয়েও বেশি। এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বাজার প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, “যখন আপনি স্বর্ণের মালিক হন, এটি কারও ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে না—যেমন বন্ড বা শেয়ারে কোম্পানির পারফরম্যান্স এর মান ঠিক করে দেয়। অতি অনিশ্চিত সময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।” সাম্প্রতিক বাজারের অস্থিরতা দেখিয়েছে যে, অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্যের মতোই স্বর্ণের দাম যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমনি দ্রুত কমেও যেতে পারে, তবে এর মৌলিক আকর্ষণ অটুট।