চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ আসনে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এক নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্বীপের বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় খোলাবাজারে পেট্রোলের অস্বাভাবিক বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবের মধ্যে জ্বালানি তেলের এই অবাধ সরবরাহ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই পেট্রোল ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষত পেট্রোল বোমা তৈরির মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানো হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্দ্বীপের ছোট-বড় বাজারগুলোতে মুদি দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানেও কাঁচের বা প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। কোনো প্রকার লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই এই ব্যবসা অবাধে চলছে। বিক্রেতারা বলছেন, মূলত মোটরসাইকেলের চাহিদা মেটাতেই তারা এই তেল বিক্রি করছেন। তবে সাধারণ সময়ের তুলনায় গত এক সপ্তাহে বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবে পেট্রোল মজুত বা অবাধ সরবরাহ মোটেও স্বাভাবিক নয়। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনী সহিংসতায় পেট্রোল বোমা একটি ভয়াবহ মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সন্দ্বীপের মতো দুর্গম এলাকায় যদি এভাবে খোলাবাজারে পেট্রোল ছড়িয়ে পড়ে, তবে দুর্বৃত্তরা খুব সহজেই তা সংগ্রহ করে নাশকতা চালাতে পারে। বিশেষ করে নির্জন এলাকা বা রাজনৈতিক মিছিলে হামলার উদ্দেশ্যে এসব ব্যবহার করার ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল।
দ্বীপের সাধারণ ভোটাররা এই পরিস্থিতিকে ভয়ের চোখে দেখছেন। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে বা পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে এই জ্বালানি তেলের অপব্যবহার হতে পারে। অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও, দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে খোলাবাজারে পেট্রোল বিক্রি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা ড্রাম বা বড় কন্টেইনারে করে পেট্রোল মজুত করছে, তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। যারা সরকারি নিয়ম অমান্য করে ঝুঁকি তৈরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















