ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নতুন নিউজ

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, কেবল পরিবার বা কৃষি কার্ড নয়, বরং যুবক-যুবতী, কর্মহীন নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো মিথ্যা আশ্বাস বা অর্থের বিনিময়ে কারো কাছ থেকে ভোট চায় না।

গতকাল (শনিবার) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহার আরও বলেন, নারীরা দেশের অমূল্য সম্পদ। তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। নারীরা সর্বক্ষেত্রে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়। একজন নারীই পারেন আদর্শ সন্তান জন্ম দিতে এবং পুরুষদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে। যারা নারীদের অবহেলা, অসম্মান বা হেনস্তা করে, তারা কখনোই তাদের মঙ্গল কামনা করে না।

তিনি উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি বিশেষ মহল ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডের লোভ দেখিয়ে, ব্যাংক ঋণ মওকুফের আশ্বাস দিয়ে এবং এনজিও থেকে উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করছে। যারা ভোটের জন্য এমন প্রলোভন দেখায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা ক্ষমতায় এলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো দেশের সম্পদ লুট করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে। তাই কোনো কার্ডের লোভে বা প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে তাদের ভোট দেওয়া উচিত হবে না।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদের উদ্দেশ্যে এটিএম আজহার বলেন, আমাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষ সমান। জামায়াতে ইসলামী ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য করে না। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেক মহিলাও এসেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সদস্যদের আচরণ দেখে ভালোবেসে এসেছেন। ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। কিছু অতি উৎসাহী মানুষ ইসলামের অপব্যাখ্যা করে বৈষম্য সৃষ্টি করে, কিন্তু আমরা কোনো ধর্মকে ছোট করে দেখি না। একজন মুসলমান মহিলার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাই এ দেশে সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সমান অধিকারের অধিকারী।

তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আলেম, ওলামা এবং সাধারণ মানুষসহ সারা দেশের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরাও মজলুম ছিলাম। যারা এখনো মজলুম, তাদের পক্ষেই বাংলাদেশ থাকবে। আমরা দলীয় শাসনের পরিবর্তে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই।

এটিএম আজহার আরও বলেন, আমরা দেশে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করতে দেব না। ভয়ের কিছু নেই। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বদরগঞ্জ মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই মহিলা সমাবেশে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মহিলা, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলাদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নতুন নিউজ

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, কেবল পরিবার বা কৃষি কার্ড নয়, বরং যুবক-যুবতী, কর্মহীন নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো মিথ্যা আশ্বাস বা অর্থের বিনিময়ে কারো কাছ থেকে ভোট চায় না।

গতকাল (শনিবার) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহার আরও বলেন, নারীরা দেশের অমূল্য সম্পদ। তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। নারীরা সর্বক্ষেত্রে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়। একজন নারীই পারেন আদর্শ সন্তান জন্ম দিতে এবং পুরুষদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে। যারা নারীদের অবহেলা, অসম্মান বা হেনস্তা করে, তারা কখনোই তাদের মঙ্গল কামনা করে না।

তিনি উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি বিশেষ মহল ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডের লোভ দেখিয়ে, ব্যাংক ঋণ মওকুফের আশ্বাস দিয়ে এবং এনজিও থেকে উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করছে। যারা ভোটের জন্য এমন প্রলোভন দেখায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা ক্ষমতায় এলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো দেশের সম্পদ লুট করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে। তাই কোনো কার্ডের লোভে বা প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে তাদের ভোট দেওয়া উচিত হবে না।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদের উদ্দেশ্যে এটিএম আজহার বলেন, আমাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষ সমান। জামায়াতে ইসলামী ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য করে না। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অনেক মহিলাও এসেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সদস্যদের আচরণ দেখে ভালোবেসে এসেছেন। ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। কিছু অতি উৎসাহী মানুষ ইসলামের অপব্যাখ্যা করে বৈষম্য সৃষ্টি করে, কিন্তু আমরা কোনো ধর্মকে ছোট করে দেখি না। একজন মুসলমান মহিলার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাই এ দেশে সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সমান অধিকারের অধিকারী।

তিনি বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে আলেম, ওলামা এবং সাধারণ মানুষসহ সারা দেশের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমরাও মজলুম ছিলাম। যারা এখনো মজলুম, তাদের পক্ষেই বাংলাদেশ থাকবে। আমরা দলীয় শাসনের পরিবর্তে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই।

এটিএম আজহার আরও বলেন, আমরা দেশে কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করতে দেব না। ভয়ের কিছু নেই। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বদরগঞ্জ মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই মহিলা সমাবেশে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মহিলা, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলাদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।