সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা পথসভা, বাজার বৈঠক, গণসংযোগ এবং আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় সরব রয়েছেন। তাদের এই প্রচারণায় দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও নিরলসভাবে অংশ নিচ্ছেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
এই আসনে এবার নির্বাচনTheBattleground-এ প্রার্থীদের পরিবারের সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। তারা এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দিরাই-শাল্লায় এবার ভোটাররা প্রতীক দেখে ভোট দেবেন, নাকি যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কাগজের পোস্টারের ব্যবহার কমিয়ে প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছেন। পথঘাট ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের (জেন-জি) আকৃষ্ট করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরণের সৃজনশীল প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই আসনটিতে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আসনটিতে নির্বাচনী উত্তাপ ততই তীব্র হচ্ছে। ভোটারদের মনে একটাই প্রশ্ন, দিরাই-শাল্লায় কে হতে চলেছেন আগামী দিনের কাণ্ডারি? রাজনীতিতে নবীন আইনজীবী শিশির মনির এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাছির চৌধুরীর মধ্যে এই লড়াই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনকে ঘিরে সকল প্রার্থী তাদের প্রচারণায় নিয়মিত ব্যস্ত রয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী, শারীরিক কিছুটা অসুস্থতা সত্ত্বেও, প্রতিদিন দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে পথসভা, বাজার বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দুই বারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তার অভিজ্ঞতা এবং প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিতি নির্বাচনী প্রচারকে তার জন্য সহজ করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) এবং সরাসরি প্রচারণায় সমান তালে ব্যস্ত রয়েছেন জামায়াত ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি নিজ অর্থায়নে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়া, কৃষক, দিনমজুর, প্রবাসী এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়ে তিনি ভিন্নধর্মী প্রচার কৌশল অবলম্বন করছেন, যা তাকে দ্রুত জনপ্রিয়তা এনে দিচ্ছে।
দিরাই উপজেলার বাসিন্দা রুদ্র মিজান বলেন, “নাছির চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তিনি আমাদের সকলের অভিভাবক। আমরা বিশ্বাস করি, দল-মত নির্বিশেষে সবাই নাছির চৌধুরীকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন, যা সারা বাংলাদেশের জন্য একটি চমক হবে।”
শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা আনিসুল হক চৌধুরী মুন তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রতি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সারা বাংলাদেশের মধ্যে দিরাই-শাল্লা এখনো অবহেলিত রয়ে গেছে। একমাত্র শিশির মনিরের মাধ্যমেই এই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। তিনি ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এবং জনগণ তাকে আপন করে নিচ্ছেন। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে শিশির মনির বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আমি আশাবাদী।”
রিপোর্টারের নাম 






















