ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

অর্থায়ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রে ফের ‘শাটডাউন’: অচল সরকারি কার্যক্রম

বাজেট বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও শুরু হয়েছে ‘শাটডাউন’ বা সরকারি অচলাবস্থা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। শনিবার মধ্যরাতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বিলটি কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ বিলটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। জানা গেছে, বিলটি সিনেটে পাস হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতায় শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং শাটডাউন কার্যকর হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের শাটডাউনের নেপথ্যে রয়েছে অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা বাজেট নিয়ে দুই প্রধান দলের তীব্র মতবিরোধ। সম্প্রতি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অ্যালেক্স প্রিটি নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বড় অঙ্কে বৃদ্ধির একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে বিলটি সহজেই পাস হয়। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকায় তারা বিলটি আটকে দেয়। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত বাজেট ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা এই বিলে সমর্থন দেবেন না। মূলত এই অনড় অবস্থানের কারণেই বাজেট পাসের প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ‘শাটডাউন’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ইতিহাসে এ নিয়ে মোট ১৮ বার শাটডাউনের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও একবার সরকারি কার্যক্রম একইভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে দুই দলের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং আগামী সপ্তাহে নতুন বরাদ্দ বিল পাসের মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

অর্থায়ন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রে ফের ‘শাটডাউন’: অচল সরকারি কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৩:২২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাজেট বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও শুরু হয়েছে ‘শাটডাউন’ বা সরকারি অচলাবস্থা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। শনিবার মধ্যরাতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বিলটি কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ বিলটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। জানা গেছে, বিলটি সিনেটে পাস হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতায় শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং শাটডাউন কার্যকর হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের শাটডাউনের নেপথ্যে রয়েছে অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা বাজেট নিয়ে দুই প্রধান দলের তীব্র মতবিরোধ। সম্প্রতি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অ্যালেক্স প্রিটি নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বড় অঙ্কে বৃদ্ধির একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে বিলটি সহজেই পাস হয়। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকায় তারা বিলটি আটকে দেয়। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত বাজেট ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা এই বিলে সমর্থন দেবেন না। মূলত এই অনড় অবস্থানের কারণেই বাজেট পাসের প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ‘শাটডাউন’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ইতিহাসে এ নিয়ে মোট ১৮ বার শাটডাউনের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও একবার সরকারি কার্যক্রম একইভাবে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে দুই দলের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং আগামী সপ্তাহে নতুন বরাদ্দ বিল পাসের মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।