মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক উভয় দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে মধ্যস্থতার আশ্বাস দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আঙ্কারা প্রস্তুত রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেকোনো সংঘাত নিরসনে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে।
শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এরদোয়ান এই প্রস্তাব দেন। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা এবং শান্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এরদোয়ান তুরস্কের গঠনমূলক কূটনীতি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট রুহানি আন্তর্জাতিক আইন ও মর্যাদার ভিত্তিতে কূটনীতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের নীতি সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক (win-win) নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইরান কোনো ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগকে প্রত্যাখ্যান করে।
প্রেসিডেন্ট রুহানি আরও বলেন, যেকোনো কার্যকর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়া অপরিহার্য। তিনি বিশ্বাস করেন, যেকোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সদিচ্ছা প্রদর্শনের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং হুমকিমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের হাতে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের মধ্যস্থতার প্রস্তাব উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























