কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকারের শরিক দল তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) একজন সংসদ সদস্য শুক্রবার লোকসভায় এই সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেছেন। মেটা, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বাজার হওয়ায় এই প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংসদ সদস্য এল.এস.কে. দেবরায়ালু প্রস্তাবিত এই বিলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ভারতীয় শিশুরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়া ভারতের বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিগুলো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি করছে। এতে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।
‘সোশ্যাল মিডিয়া (বয়স সীমা এবং অনলাইন নিরাপত্তা) বিল’ শীর্ষক এই ১৫ পৃষ্ঠার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ১৬ বছরের নিচে কোনো শিশু বা কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা ব্যবহার করতে পারবে না। যদি আগে থেকে কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে হবে। বিলটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যবহারকারীর সঠিক বয়স যাচাই করার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বহন করতে হবে।
বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার, যেখানে প্রায় ৭৫ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং ১০০ কোটির বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছে। তবে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম বয়সসীমা নেই। যদিও এটি একটি ব্যক্তিগত বিল (প্রাইভেট মেম্বারস বিল) হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে, যা সাধারণত সরাসরি আইনে পরিণত হয় না, তবে এ ধরনের বিল সংসদে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে সরকারের আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, ভারতের এই প্রস্তাব তারই অংশ। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া ফ্রান্স ১৫ বছরের নিচে কিশোরদের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধের প্রস্তাব সমর্থন করেছে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং গ্রিসের মতো দেশগুলোও বর্তমানে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।
প্রস্তাবিত এই বিলের বিষয়ে মেটা বা এক্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে মেটা আগে জানিয়েছিল যে, তারা অভিভাবকদের মাধ্যমে তদারকি করার আইনকে সমর্থন করে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, ঢালাওভাবে নিষিদ্ধ করার ফলে কিশোর-কিশোরীরা অনিয়ন্ত্রিত এবং অনিরাপদ সাইটগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষমতাসীন দল তেলুগু দেশম পার্টির এই সংসদ সদস্যের প্রস্তাবটি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মোদি সরকারের অন্যতম প্রধান সহযোগী হওয়ায় এই বিলটি নিয়ে দেশটির সংসদ ও নীতিনির্ধারক মহলে বড় ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























