ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ক্ষত নিরাময়ে ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ ও সংস্কারের ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি রদ্রিগেজ সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আইনের আওতায় ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলা সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

শুক্রবার কারাকাসে সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত মুছে ফেলতে এবং দেশের বিচারব্যবস্থাকে চরমপন্থা ও সহিংসতামুক্ত করে সুশাসন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় সংলাপ’ শুরুর ঘোষণা দেন।

রদ্রিগেজ প্রশাসনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো কারাকাসের কুখ্যাত ‘এল হেলিকোয়েড’ কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, মাদুরো সরকারের সময় এই কারাগারে রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কারাগারটিকে একটি আধুনিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা স্থানীয় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে রদ্রিগেজ দেশটির অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের সূচনা করেছেন। ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে, গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০-এর বেশি বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি কিছুটা কম। এদিকে, কারাকাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ভেনেজুয়েলায় আটক থাকা সব মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পেরুভিয়ান-আমেরিকান রাজনৈতিক বন্দী আর্তুরো গ্যালিনো রুলিয়ার মুক্তির পরপরই এই ঘোষণা আসে।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনের এই সংস্কারমুখী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটিতে পুনরায় কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, অভিজ্ঞ কূটনীতিক লরা ডগ্লু ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শনিবার কারাকাসে পৌঁছাবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ক্ষত নিরাময়ে ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ ও সংস্কারের ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘সাধারণ ক্ষমা আইন’ প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি রদ্রিগেজ সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আইনের আওতায় ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চলা সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

শুক্রবার কারাকাসে সুপ্রিম কোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত মুছে ফেলতে এবং দেশের বিচারব্যবস্থাকে চরমপন্থা ও সহিংসতামুক্ত করে সুশাসন নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিচারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি ‘জাতীয় সংলাপ’ শুরুর ঘোষণা দেন।

রদ্রিগেজ প্রশাসনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো কারাকাসের কুখ্যাত ‘এল হেলিকোয়েড’ কারাগারটি বন্ধ করে দেওয়া। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, মাদুরো সরকারের সময় এই কারাগারে রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কারাগারটিকে একটি আধুনিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা স্থানীয় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে রদ্রিগেজ দেশটির অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের সূচনা করেছেন। ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে, গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত ৮০০-এর বেশি বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি কিছুটা কম। এদিকে, কারাকাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ভেনেজুয়েলায় আটক থাকা সব মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পেরুভিয়ান-আমেরিকান রাজনৈতিক বন্দী আর্তুরো গ্যালিনো রুলিয়ার মুক্তির পরপরই এই ঘোষণা আসে।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসনের এই সংস্কারমুখী কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটিতে পুনরায় কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, অভিজ্ঞ কূটনীতিক লরা ডগ্লু ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শনিবার কারাকাসে পৌঁছাবেন।