ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর দেশের সামরিক বাহিনীকে নতুন এক যুদ্ধকৌশল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রত্যয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যা তাদের নিয়মিত সেনা সরবরাহের চেয়ে বেশি হবে।
সম্প্রতি সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনীগুলো এমনভাবে আক্রমণ পরিচালনা করবে যাতে প্রতি মাসে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাদের নতুন করে সেনাসমাবেশের চেয়ে বেশি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার রুশ সেনার হতাহতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাম্প্রতিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে নভেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার এবং অক্টোবরে ছিল ২৬ হাজার। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ৩৫ হাজারের মধ্যে নিহত ও আহত উভয় প্রকারের সেনাই অন্তর্ভুক্ত, যারা আর যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে পারবে না।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বর মাসে ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ রুশ সেনা হয় পঙ্গু হয়েছে অথবা নিহত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া প্রায় ১২ লক্ষ সেনা হতাহতের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার মারা গেছে। একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের প্রায় ৬ লক্ষ সেনা হতাহতের কথা বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার নিহত হয়েছে। তবে, এই পরিসংখ্যানগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া নতুন করে ভূখণ্ড দখলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























