ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মরিয়া ব্রিটেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা ও সম্ভাব্য কঠোর নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেইজিং সফরে গিয়ে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

শুক্রবার চীন সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার চীনের সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন অনেক ‘বিরাট সক্ষমতা’ ও কারিগরি দক্ষতা রয়েছে যা চীনের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। এই সফরের মধ্য দিয়ে মূলত দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের রদবদল আসার আশঙ্কায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বিতর্কিত ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প পথ খুঁজতে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন পশ্চিমা নেতারা।

কেবল যুক্তরাজ্যই নয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্স, কানাডা ও ফিনল্যান্ডের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারাও চীন সফর করেছেন। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সংরক্ষণবাদী নীতির বিপরীতে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় অংশ বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে। কিয়ার স্টারমারের এই সফর সেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মরিয়া ব্রিটেন

আপডেট সময় : ১০:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা ও সম্ভাব্য কঠোর নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেইজিং সফরে গিয়ে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

শুক্রবার চীন সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকার চীনের সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন অনেক ‘বিরাট সক্ষমতা’ ও কারিগরি দক্ষতা রয়েছে যা চীনের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। এই সফরের মধ্য দিয়ে মূলত দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের রদবদল আসার আশঙ্কায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো বিতর্কিত ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প পথ খুঁজতে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন পশ্চিমা নেতারা।

কেবল যুক্তরাজ্যই নয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্রান্স, কানাডা ও ফিনল্যান্ডের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারাও চীন সফর করেছেন। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সংরক্ষণবাদী নীতির বিপরীতে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের একটি বড় অংশ বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে। কিয়ার স্টারমারের এই সফর সেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।