ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইল ও সৌদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলের কাছে ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বিক্রির জন্য ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। গাজায় সাম্প্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এলো। একই প্যাকেজের অংশ হিসেবে ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যৌথ লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইসরাইল যাতে শক্তিশালী আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে, যা আকাশপথে যেকোনো সম্ভাব্য হামলা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল। একই সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সৌদি আরব ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, তবুও তারা তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, বড় ধরনের অস্থিরতা তাদের ব্যবসাবান্ধব ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

দীর্ঘকাল ধরেই সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা বিবেচনা করে আসছিল। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সেই উদ্যোগ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণকে একটি মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইল ও সৌদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলের কাছে ৩০টি অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বিক্রির জন্য ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। গাজায় সাম্প্রতিক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এলো। একই প্যাকেজের অংশ হিসেবে ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের যৌথ লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ইসরাইল যাতে শক্তিশালী আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে, যা আকাশপথে যেকোনো সম্ভাব্য হামলা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল। একই সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সৌদি আরব ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র নয়, তবুও তারা তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, বড় ধরনের অস্থিরতা তাদের ব্যবসাবান্ধব ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

দীর্ঘকাল ধরেই সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা বিবেচনা করে আসছিল। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে সেই উদ্যোগ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণকে একটি মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন।