ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

রুশ আগ্রাসন রুখতে নতুন রণকৌশল: জেলেনস্কির কঠোর বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়েও রাশিয়া তার আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে এই যুদ্ধে জয়ী হতে চান তিনি। এই লক্ষ্যে, তিনি তার সামরিক কর্মকর্তাদের এক নতুন ও কঠোর যুদ্ধকৌশল গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সম্প্রতি সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হবে রুশ বাহিনীকে এমনভাবে ধ্বংস করা, যাতে প্রতি মাসে তাদের ক্ষয়ক্ষতি নতুন করে সৈন্য পাঠানোর সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার রুশ সেনার ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করা গেলে তা হবে যুদ্ধের ময়দানে বিজয় অর্জনের অন্যতম সেরা কৌশল।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার এবং অক্টোবরে তা ছিল ২৬ হাজার। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ৩৫ হাজারের মধ্যে নিহত ও আহত উভয় প্রকার সেনাই অন্তর্ভুক্ত, যারা আর যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে পারবে না।

ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ রুশ সেনা হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট প্রায় ১২ লক্ষ রুশ সেনা হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩ লক্ষ ২৫ হাজার নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রায় ৬ লক্ষ সেনা হতাহত হয়েছেন এবং ১ লক্ষ ৪০ হাজার নিহত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা কোনো পক্ষের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্র এক অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া উল্লেখযোগ্য নতুন ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

রুশ আগ্রাসন রুখতে নতুন রণকৌশল: জেলেনস্কির কঠোর বার্তা

আপডেট সময় : ০৫:০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়েও রাশিয়া তার আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে এই যুদ্ধে জয়ী হতে চান তিনি। এই লক্ষ্যে, তিনি তার সামরিক কর্মকর্তাদের এক নতুন ও কঠোর যুদ্ধকৌশল গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সম্প্রতি সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হবে রুশ বাহিনীকে এমনভাবে ধ্বংস করা, যাতে প্রতি মাসে তাদের ক্ষয়ক্ষতি নতুন করে সৈন্য পাঠানোর সংখ্যার চেয়ে বেশি হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার রুশ সেনার ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করা গেলে তা হবে যুদ্ধের ময়দানে বিজয় অর্জনের অন্যতম সেরা কৌশল।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার এবং অক্টোবরে তা ছিল ২৬ হাজার। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ৩৫ হাজারের মধ্যে নিহত ও আহত উভয় প্রকার সেনাই অন্তর্ভুক্ত, যারা আর যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে পারবে না।

ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ রুশ সেনা হয় নিহত হয়েছেন, নয়তো পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট প্রায় ১২ লক্ষ রুশ সেনা হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩ লক্ষ ২৫ হাজার নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রায় ৬ লক্ষ সেনা হতাহত হয়েছেন এবং ১ লক্ষ ৪০ হাজার নিহত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা কোনো পক্ষের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্র এক অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া উল্লেখযোগ্য নতুন ভূখণ্ড দখলে নেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।