গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা।
এই প্রথমবারের মতো ইসরাইলের সামরিক বাহিনী গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যানকে স্বীকার করেছে। এর আগে, ইসরাইল এই তথ্যগুলোকে ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ৭১ হাজার ৬৬৭ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। তবে, এই সংখ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা অনাহারে ও রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষকদের মতে, মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত এই তথ্যগুলো ব্যাপকভাবে নির্ভরযোগ্য।
বিভিন্ন গবেষণা, যার মধ্যে ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকাশিত একটি সমীক্ষাও রয়েছে, ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। গত বছরের শুরুর দিকে সংঘটিত সহিংসতায় প্রায় দুই লক্ষাধিক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় আহত হয়েছেন এক লক্ষ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে গাজায় বসবাসরত ২৪ লক্ষ ফিলিস্তিনির মধ্যে দেড় লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল শুধু হামলা চালাচ্ছে তাই নয়, অবরুদ্ধ উপত্যকায় খাদ্য, ঔষধ এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে সেখানে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিরা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। চুক্তি লঙ্ঘনের এই অব্যাহত ধারায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটছে, যা এই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























