ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের মিছিলে যে হামলা হয়েছে, ছাত্রফ্রন্ট সেটার নিন্দা জানিয়েছে।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যে ‘ভুখা মিছিল’ করছিলেন, সেই মিছিলে পুলিশ যেভাবে বাধা দিয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে, লাঠিপেটা করেছে আর জলকামান ব্যবহার করেছে—এই ঘটনার তীব্র নিন্দা আর প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটি একই সাথে শিক্ষকদের দাবিগুলোও অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক অরূপ দাশের সই করা একটা বিবৃতিতে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী আর সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এই নিন্দা ও প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেছেন, “ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে জাতীয়করণ করাসহ মোট ৫ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষকরা অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন। সরকার তাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে তো নেয়ইনি, উল্টো বলপ্রয়োগের একটা অগণতান্ত্রিক রাস্তা বেছে নিয়েছে।” তারা বলেন, “পুলিশ শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে, লাঠি চালিয়েছে আর জলকামান ছুড়েছে। এতে প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এর আগেও আমরা দেখেছি, যখনই ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে, পুলিশ বারবার তাদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এটা গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—অর্থাৎ একটা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার—তার ঠিক উল্টো।”

তারা আরও বলেন, “জনগণের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ যখন এভাবে বাধা দেয় (হস্তক্ষেপ) বা নির্যাতন চালায়, এটা আসলে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণেরই প্রমাণ (বহিঃপ্রকাশ)। অভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল যে, আগের ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময় তারা যেসব অধিকার পায়নি (বঞ্চিত হয়েছিল), এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারা সেগুলো ফেরত পাবে। কিন্তু মানুষের সেই সব আশা-ভরসাকে পায়ে মাড়িয়ে (ভূলুণ্ঠিত করে) এই সরকারও সেই ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকসহ সব মানুষের ন্যায্য আন্দোলনকে दबाনোর (দমন) জন্য সেই পুরোনো ‘বর্বর আওয়ামী রাস্তাই’ বেছে নিচ্ছে।”

তারা দাবি করেন, এই হামলার সাথে যারা জড়িত, অবিলম্বে যেন তাদের বিচার করা হয়, আহত শিক্ষকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং শিক্ষকদের যে যৌক্তিক দাবিগুলো আছে, সেগুলোও যেন মেনে নেওয়া হয়।

এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার (২৯ অক্টোবর), ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সচিবালয়ের দিকে একটা ‘ভুখা মিছিল’ বের করেছিলেন। মিছিলটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান আর লাঠিপেটা ব্যবহার করে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

“ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের মিছিলে যে হামলা হয়েছে, ছাত্রফ্রন্ট সেটার নিন্দা জানিয়েছে।”

আপডেট সময় : ০৩:৪০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যে ‘ভুখা মিছিল’ করছিলেন, সেই মিছিলে পুলিশ যেভাবে বাধা দিয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে, লাঠিপেটা করেছে আর জলকামান ব্যবহার করেছে—এই ঘটনার তীব্র নিন্দা আর প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটি একই সাথে শিক্ষকদের দাবিগুলোও অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক অরূপ দাশের সই করা একটা বিবৃতিতে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী আর সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এই নিন্দা ও প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেছেন, “ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে জাতীয়করণ করাসহ মোট ৫ দফা দাবি নিয়ে শিক্ষকরা অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন। সরকার তাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে তো নেয়ইনি, উল্টো বলপ্রয়োগের একটা অগণতান্ত্রিক রাস্তা বেছে নিয়েছে।” তারা বলেন, “পুলিশ শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড মেরেছে, লাঠি চালিয়েছে আর জলকামান ছুড়েছে। এতে প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এর আগেও আমরা দেখেছি, যখনই ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে, পুলিশ বারবার তাদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। এটা গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—অর্থাৎ একটা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার—তার ঠিক উল্টো।”

তারা আরও বলেন, “জনগণের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ যখন এভাবে বাধা দেয় (হস্তক্ষেপ) বা নির্যাতন চালায়, এটা আসলে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণেরই প্রমাণ (বহিঃপ্রকাশ)। অভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল যে, আগের ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময় তারা যেসব অধিকার পায়নি (বঞ্চিত হয়েছিল), এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারা সেগুলো ফেরত পাবে। কিন্তু মানুষের সেই সব আশা-ভরসাকে পায়ে মাড়িয়ে (ভূলুণ্ঠিত করে) এই সরকারও সেই ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকসহ সব মানুষের ন্যায্য আন্দোলনকে दबाনোর (দমন) জন্য সেই পুরোনো ‘বর্বর আওয়ামী রাস্তাই’ বেছে নিচ্ছে।”

তারা দাবি করেন, এই হামলার সাথে যারা জড়িত, অবিলম্বে যেন তাদের বিচার করা হয়, আহত শিক্ষকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং শিক্ষকদের যে যৌক্তিক দাবিগুলো আছে, সেগুলোও যেন মেনে নেওয়া হয়।

এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার (২৯ অক্টোবর), ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে সচিবালয়ের দিকে একটা ‘ভুখা মিছিল’ বের করেছিলেন। মিছিলটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান আর লাঠিপেটা ব্যবহার করে।