জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের বরফ গলে নদীর পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। এর ফলে একসময়ের উর্বর চারণভূমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যা মহিষ পালনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে। বিস্তীর্ণ চারণভূমি বালুচরে পরিণত হওয়ায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে কমছে মহিষের সংখ্যা, যা স্থানীয় দুধ, দই ও মাংস উৎপাদন এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অনিয়মিত ও তীব্র নদীভাঙন চিলমারীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে পাল্টে দিচ্ছে। হিমালয়ের বরফ গলার ফলে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে এবং তা অপ্রত্যাশিতভাবে ওঠানামা করছে। এর প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে চিলমারীর বিশাল এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। যে জমিগুলো একসময় সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত ছিল এবং গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেগুলো এখন হয় পানির নিচে তলিয়ে গেছে অথবা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পলিমাটির উর্বর আস্তরণের বদলে জমিতে পড়ছে বালুর পুরু স্তর। এই বালুময় মাটিতে মহিষের খাদ্য উপযোগী ঘাস বা লতাপাতা জন্মাতে পারে না, ফলে উর্বর চারণভূমিগুলো এখন ধু-ধু বালুচরে পরিণত হচ্ছে। চারণভূমির এই সংকটের কারণে মহিষ পালনের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মহিষ পালনের পরিবেশ ক্রমেই প্রতিকূল হয়ে ওঠায় প্রতি বছর এর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগেও চিলমারীতে যে সংখ্যক মহিষ ছিল, গত তিন বছরে তা প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। মহিষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দুধ, দই ও মাংসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা কেবল পশুপালকদের জীবনযাত্রাকেই নয়, বরং পুরো এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য এই চিত্র তুলে ধরে বলেন, “একসময় আমার বাড়িতেই ৮০ থেকে ৯০টি মহিষ ছিল। কিন্তু চারণভূমির অভাবে সেই সংখ্যা এখন মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছে। শুধু আমার পরিবার নয়, পুরো অঞ্চলের চিত্রই একই রকম।” তিনি আরও জানান, এই সংকট মোকাবিলায় চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট চারণভূমি সংরক্ষণ এবং একটি সমন্বিত পশুপালন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া গেলে মহিষ পালন আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























