ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নাইকো মামলায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ইকসিড) টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ২০০৫ সালে সংঘটিত ওই ভয়াবহ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বাবদ কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এই যুগান্তকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়ে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। এর পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে নয়টি গ্যাস স্তর চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য এই গ্যাসক্ষেত্রটি কানাডীয় তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান নাইকোর কাছে হস্তান্তর করে সরকার। খনন কাজ চলাকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বিস্ফোরণের পরপরই বাংলাদেশ নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। কিন্তু নাইকো সেই দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটনের ইকসিড আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায়ই গ্যাসক্ষেত্রের খনন কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থতার কারণেই বিস্ফোরণগুলো ঘটেছিল। তাই এই ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী এবং বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ অবনতি: ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫২তম অবস্থান

নাইকো মামলায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ইকসিড) টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ২০০৫ সালে সংঘটিত ওই ভয়াবহ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ বাবদ কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান এই যুগান্তকারী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়ে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশগত ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। এর পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে নয়টি গ্যাস স্তর চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য এই গ্যাসক্ষেত্রটি কানাডীয় তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান নাইকোর কাছে হস্তান্তর করে সরকার। খনন কাজ চলাকালে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বিস্ফোরণের পরপরই বাংলাদেশ নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। কিন্তু নাইকো সেই দাবি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ওয়াশিংটনের ইকসিড আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায়ই গ্যাসক্ষেত্রের খনন কাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থতার কারণেই বিস্ফোরণগুলো ঘটেছিল। তাই এই ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী এবং বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।