কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক এক বছরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এই সময়ে ২ লাখের বেশি ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন এবং অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এপিবিএন সূত্র জানায়, গত ২০২৫ সালের মে মাস থেকে চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৭১টি মামলায় এই ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হত্যা মামলার ২২ জন, অস্ত্র মামলার ৮ জন, অপহরণ মামলার ১২ জন, মাদক মামলার ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলার ২ জন, চুরি মামলার ৫ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন বয়সী ১৩ জন অপহৃত নারী, পুরুষ ও শিশুকে জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পিত অভিযান ও কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবননাশের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৩১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি সাব-মেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকিটকি সেট, বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা, মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎসের ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, এসব অভিযানের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, বাল্যবিবাহ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া এবং পারিবারিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউনিটের অভ্যন্তরীণ কল্যাণমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিয়ে সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























