ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় আসার ঠিক আগেই, কিম জং উন বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালেন।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। তবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় নামার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তর কোরিয়া তাদের পশ্চিম উপকূল থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ), এই খবর জানিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ট্রাম্প তার এশিয়া সফরের প্রায় শেষ দিকে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখেন। এখানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও ট্রাম্পের দেখা করার একটা সম্ভাবনা আছে।

ট্রাম্প জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন এক সময়ে পৌঁছালেন, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে ট্রাম্প বড় বড় কোম্পানির সিইওদের এক সম্মেলনে ভাষণ দেবেন এবং ঐতিহাসিক গিয়াংজু শহরে প্রেসিডেন্ট লির সঙ্গে দেখা করবেন।

ওদিকে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বুধবার জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার ইয়োলো সাগরে (পীত সাগরে) এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছিল। এগুলো দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উড়ে গিয়ে ঠিকঠাক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পাক জং চন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই পরীক্ষা তদারকি করেছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা (প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরির চেষ্টা করছে, তাতে এটা একটা বড় সাফল্য।

পাক জং চন জানান, “এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ওপর ভরসা করা যায় কি না তা যাচাই করা এবং শত্রুদের কাছে আমাদের ক্ষমতাটা দেখানো।”

তিনি আরও বলেন, “পারমাণবিক যুদ্ধ করার ক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি টের পেয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর-পশ্চিম উপকূল থেকে ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মিলে এই অস্ত্রগুলোর ধরণ বিশ্লেষণ করেছে। তারা জানিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার যেকোনো উসকানির জবাব দিতে তারা শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাটা মোটেই কাকতালীয় নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কোরীয় উপদ্বীপে এটাই তার প্রথম সফর। আর ঠিক তার আগেই এই পরীক্ষাটা চালানো হলো। ট্রাম্প অবশ্য এই সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহও দেখিয়েছেন। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সেই প্রস্তাবে সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মুজিন বলেছেন, ট্রাম্পের আসার ঠিক আগমুহূর্তে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়া একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। তারা বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা নিজেদের পারমাণবিক ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল এবং এই অস্ত্র কমানোর (নিরস্ত্রীকরণ) বিষয়ে কোনো আলোচনা করবে না।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানে আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস, কাবুলসহ কিছু এলাকায় শান্তি

“ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় আসার ঠিক আগেই, কিম জং উন বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালেন।”

আপডেট সময় : ১০:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। তবে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় নামার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তর কোরিয়া তাদের পশ্চিম উপকূল থেকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ), এই খবর জানিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, ট্রাম্প তার এশিয়া সফরের প্রায় শেষ দিকে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখেন। এখানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। এরপর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও ট্রাম্পের দেখা করার একটা সম্ভাবনা আছে।

ট্রাম্প জাপান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন এক সময়ে পৌঁছালেন, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে ট্রাম্প বড় বড় কোম্পানির সিইওদের এক সম্মেলনে ভাষণ দেবেন এবং ঐতিহাসিক গিয়াংজু শহরে প্রেসিডেন্ট লির সঙ্গে দেখা করবেন।

ওদিকে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বুধবার জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার ইয়োলো সাগরে (পীত সাগরে) এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়েছিল। এগুলো দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উড়ে গিয়ে ঠিকঠাক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পাক জং চন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই পরীক্ষা তদারকি করেছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা (প্রতিরোধ ক্ষমতা) তৈরির চেষ্টা করছে, তাতে এটা একটা বড় সাফল্য।

পাক জং চন জানান, “এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ওপর ভরসা করা যায় কি না তা যাচাই করা এবং শত্রুদের কাছে আমাদের ক্ষমতাটা দেখানো।”

তিনি আরও বলেন, “পারমাণবিক যুদ্ধ করার ক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি টের পেয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর-পশ্চিম উপকূল থেকে ছোড়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মিলে এই অস্ত্রগুলোর ধরণ বিশ্লেষণ করেছে। তারা জানিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার যেকোনো উসকানির জবাব দিতে তারা শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাটা মোটেই কাকতালীয় নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কোরীয় উপদ্বীপে এটাই তার প্রথম সফর। আর ঠিক তার আগেই এই পরীক্ষাটা চালানো হলো। ট্রাম্প অবশ্য এই সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহও দেখিয়েছেন। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সেই প্রস্তাবে সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মুজিন বলেছেন, ট্রাম্পের আসার ঠিক আগমুহূর্তে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়া একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। তারা বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা নিজেদের পারমাণবিক ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল এবং এই অস্ত্র কমানোর (নিরস্ত্রীকরণ) বিষয়ে কোনো আলোচনা করবে না।