ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক সেনা নিহতের জেরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত

গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ জনে পৌঁছেছে। হামাসের আক্রমণে একজন আইডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন—এই অভিযোগে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত থেকে ইসরায়েল এই হামলা শুরু করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা দাবি করেছে, ইসরায়েলের এই হামলায় একটি পরিবারের ১৮ জন সদস্যসহ মোট প্রায় ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে হামাস পরিচালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, হামলায় ২২ জন শিশুসহ অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ।

ইসরায়েলি হামলায় গাজা সিটি, বেইত লাহিয়া, বুরেইজ, নুসেইরাত এবং খান ইউনিস এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজা সিটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের আঘাতে আবাসিক এলাকাগুলো কেঁপে উঠছিল। তিনি শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন।

হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েলি কাতজ বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী হামাস মৃত জিম্মিদের ফেরত দিতে গড়িমসি করছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একজন আইডিএফ সেনাকে হত্যা করেছে।

কাতজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামাস “খুব সুস্পষ্টভাবে সীমা লঙ্ঘন করেছে”। মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরতের শর্ত না মানা এবং ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলা চালানোর জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, হামাস ওই ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “রাফায় গোলাগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ হামাস জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আমাদের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। বরং ইসরায়েলি বাহিনীই গাজার বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে চুক্তি ভঙ্গ করছে।”

ইসরায়েলের দিক থেকেই চুক্তি লঙ্ঘন করা হচ্ছে—এই অভিযোগ এনে হামাসের সশস্ত্র শাখা জানিয়েছে, মঙ্গলবার উদ্ধার করা একজন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তারা স্থগিত করেছে।

এই হামলার পরও যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়বে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যদি হামলার শিকার হয়, তবে তারা পাল্টা হামলা চালাবেই।

তিনি বলেন, “আমার কথা স্পষ্ট, হামাস একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। তাই ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং সেটা তাদের করা উচিত। তবে এতে যুদ্ধবিরতির কোনোভাবেই ক্ষতি হবে না। আপনাদের বুঝতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হামাস খুবই ছোট একটা ইস্যু। তাদের নিজেদের শুধরে নেওয়া উচিত।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই আফগানিস্তান

এক সেনা নিহতের জেরে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ জনে পৌঁছেছে। হামাসের আক্রমণে একজন আইডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন—এই অভিযোগে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত থেকে ইসরায়েল এই হামলা শুরু করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা দাবি করেছে, ইসরায়েলের এই হামলায় একটি পরিবারের ১৮ জন সদস্যসহ মোট প্রায় ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে হামাস পরিচালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, হামলায় ২২ জন শিশুসহ অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ।

ইসরায়েলি হামলায় গাজা সিটি, বেইত লাহিয়া, বুরেইজ, নুসেইরাত এবং খান ইউনিস এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজা সিটির একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের আঘাতে আবাসিক এলাকাগুলো কেঁপে উঠছিল। তিনি শহরের বিভিন্ন অংশ থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন।

হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েলি কাতজ বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী হামাস মৃত জিম্মিদের ফেরত দিতে গড়িমসি করছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একজন আইডিএফ সেনাকে হত্যা করেছে।

কাতজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামাস “খুব সুস্পষ্টভাবে সীমা লঙ্ঘন করেছে”। মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরতের শর্ত না মানা এবং ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলা চালানোর জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, হামাস ওই ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “রাফায় গোলাগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ হামাস জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আমাদের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। বরং ইসরায়েলি বাহিনীই গাজার বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে চুক্তি ভঙ্গ করছে।”

ইসরায়েলের দিক থেকেই চুক্তি লঙ্ঘন করা হচ্ছে—এই অভিযোগ এনে হামাসের সশস্ত্র শাখা জানিয়েছে, মঙ্গলবার উদ্ধার করা একজন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তারা স্থগিত করেছে।

এই হামলার পরও যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়বে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা যদি হামলার শিকার হয়, তবে তারা পাল্টা হামলা চালাবেই।

তিনি বলেন, “আমার কথা স্পষ্ট, হামাস একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। তাই ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং সেটা তাদের করা উচিত। তবে এতে যুদ্ধবিরতির কোনোভাবেই ক্ষতি হবে না। আপনাদের বুঝতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হামাস খুবই ছোট একটা ইস্যু। তাদের নিজেদের শুধরে নেওয়া উচিত।”