ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র‍্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে, ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের সুবিধার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি অ্যাপ তৈরি করবে। এছাড়া নির্বাচনের ঠিক আগের এবং পরের ৭২ ঘণ্টা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে জানিয়ে প্রেসসচিব আরও বলেন, ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে দুটি কমিটি কাজ করবে। ভুল তথ্য বা ডিজইনফরমেশন মোকাবিলার জন্যও কমিটি থাকবে। এই বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হবে।’

নির্বাচনে কারা দায়িত্ব পালন করবেন—এ বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, প্রায় সাড়ে ৯২ হাজার সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার সেনাসদস্য এবং বাকিরা নৌবাহিনীর সদস্য হবেন। তবে ভোটের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকবে আনসার সদস্যরা। পুলিশের কাছেও বডি ক্যামেরা থাকবে।’

শফিকুল আলম আরও জানান, নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য বৈঠকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, এবার তাঁদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হবে না।’

প্রেসসচিব আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিবেদনেই রয়েছে যে, একবিংশ শতকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি আর নেই।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবে, তা হবে না। সেভাবেই কাজ চলছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’

শফিকুল আলম এও জানান যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীনভাবেই কাজ করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই আফগানিস্তান

১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৬:১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন। ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং র‍্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে, ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানান, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের সুবিধার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি অ্যাপ তৈরি করবে। এছাড়া নির্বাচনের ঠিক আগের এবং পরের ৭২ ঘণ্টা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে জানিয়ে প্রেসসচিব আরও বলেন, ‘নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে দুটি কমিটি কাজ করবে। ভুল তথ্য বা ডিজইনফরমেশন মোকাবিলার জন্যও কমিটি থাকবে। এই বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হবে।’

নির্বাচনে কারা দায়িত্ব পালন করবেন—এ বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, প্রায় সাড়ে ৯২ হাজার সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার সেনাসদস্য এবং বাকিরা নৌবাহিনীর সদস্য হবেন। তবে ভোটের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় থাকবে আনসার সদস্যরা। পুলিশের কাছেও বডি ক্যামেরা থাকবে।’

শফিকুল আলম আরও জানান, নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টা রুখে দেওয়ার জন্য বৈঠকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, এবার তাঁদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হবে না।’

প্রেসসচিব আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রতিবেদনেই রয়েছে যে, একবিংশ শতকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি আর নেই।’ তিনি বলেন, ‘কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পেয়ে যাবে, তা হবে না। সেভাবেই কাজ চলছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’

শফিকুল আলম এও জানান যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীনভাবেই কাজ করছে।