ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেট্রোরেলের মতিঝিল-কমলাপুর অংশে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে অন্তর্বর্তী সরকার

রেলপথ মন্ত্রণালয় আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে যারা দরপত্র জমা দিয়েছিল, সম্প্রতি সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই কাজের প্রাথমিক খরচ নিয়ে সম্প্রতি কিছু প্রশ্ন উঠেছিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সফলভাবে দর-কষাকষি করে বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছে।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই খাতের জন্য ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। মূলত, এই ২৭৪ কোটি টাকা ছিল একটি অনুমোদিত ব্যয় মাত্র।

প্রকৃত খরচ সাধারণত দরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হয়, যা মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন, কাঁচামাল সরবরাহের জটিলতা এবং পরিবহন খরচের মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি-এল এন্ড টি এই কাজের জন্য প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এত বেশি দামে কাজটি করাতে রাজি ছিল না। সরকারের নির্দেশে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ দর-কষাকষির কৌশল নেয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ৪৬৫ কোটি টাকায় কাজটি করাতে উভয় পক্ষকে রাজি করায়। একই সাথে, কাজের ‘ডিফ্যাক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড’ (ত্রুটি সংশোধনের সময়) এক বছর বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজও মারুবেনি-এল এন্ড টি করেছিল। ফলে একই ঠিকাদার হওয়ায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কাজে ‘সিস্টেম ইনটিগ্রেশন’ বা সমন্বয় করতে সুবিধা হবে।

এই নতুন চুক্তির ফলে নিট প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হলো, যা সরকারের ‘খরচ যৌক্তিকীকরণ’ নীতিরই একটি প্রতিফলন।

পাশাপাশি, প্রকল্পে অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার সাথে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মনোনীত ঠিকাদারকে দিয়েই কাজটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বচ্ছতা এবং কঠোর দর-কষাকষির মাধ্যমে জনগণের টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের আন্দোলন-সংগ্রামে যে কাজিপাড়া, মিরপুর-১০ এবং অন্যান্য মেট্রোরেল স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মাত্র ১৮ কোটি টাকা খরচে এবং আড়াই মাসের মধ্যে মেরামত করা হয়েছে। অথচ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই একই কাজের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল এবং সময় ধরা হয়েছিল এক বছরেরও বেশি।

সম্প্রতি, পিক-আওয়ারে (বেশি ভিড়ের সময়) এক ট্রেন থেকে পরের ট্রেনের জন্য অপেক্ষার সময় ৮ মিনিট থেকে কমিয়ে ৬ মিনিট করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই সময় কমিয়ে মাত্র ৫ মিনিটে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া মেট্রো রেলের চলার সময়ও সম্প্রতি ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

এর বাইরে, ভাড়া ছাড়াও আয় বাড়ানোর জন্য স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থান, ব্যাংক, এটিএম ও সিআরএম বুথ স্থাপন এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তিগুলো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানোর চুক্তিও স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিটি প্রকল্পে খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় নকশা সংশোধন, দর বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দাম তুলনা করে সর্বনিম্ন খরচের প্রাক্কলন তৈরির কাজও চলছে।

মেট্রো রেল পরিচালনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজনও অব্যাহত আছে।

এছাড়া, রিয়েল-টাইম প্রযুক্তি হস্তান্তর, ডিএমটিসিএলের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশে চাকরির সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই আফগানিস্তান

মেট্রোরেলের মতিঝিল-কমলাপুর অংশে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

রেলপথ মন্ত্রণালয় আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে যারা দরপত্র জমা দিয়েছিল, সম্প্রতি সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই কাজের প্রাথমিক খরচ নিয়ে সম্প্রতি কিছু প্রশ্ন উঠেছিল, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সফলভাবে দর-কষাকষি করে বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছে।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই খাতের জন্য ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। মূলত, এই ২৭৪ কোটি টাকা ছিল একটি অনুমোদিত ব্যয় মাত্র।

প্রকৃত খরচ সাধারণত দরপত্র মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হয়, যা মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন, কাঁচামাল সরবরাহের জটিলতা এবং পরিবহন খরচের মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি-এল এন্ড টি এই কাজের জন্য প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এত বেশি দামে কাজটি করাতে রাজি ছিল না। সরকারের নির্দেশে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ দর-কষাকষির কৌশল নেয় এবং দীর্ঘ আলোচনার পর ৪৬৫ কোটি টাকায় কাজটি করাতে উভয় পক্ষকে রাজি করায়। একই সাথে, কাজের ‘ডিফ্যাক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড’ (ত্রুটি সংশোধনের সময়) এক বছর বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজও মারুবেনি-এল এন্ড টি করেছিল। ফলে একই ঠিকাদার হওয়ায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কাজে ‘সিস্টেম ইনটিগ্রেশন’ বা সমন্বয় করতে সুবিধা হবে।

এই নতুন চুক্তির ফলে নিট প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হলো, যা সরকারের ‘খরচ যৌক্তিকীকরণ’ নীতিরই একটি প্রতিফলন।

পাশাপাশি, প্রকল্পে অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার সাথে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মনোনীত ঠিকাদারকে দিয়েই কাজটি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বচ্ছতা এবং কঠোর দর-কষাকষির মাধ্যমে জনগণের টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের আন্দোলন-সংগ্রামে যে কাজিপাড়া, মিরপুর-১০ এবং অন্যান্য মেট্রোরেল স্টেশনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মাত্র ১৮ কোটি টাকা খরচে এবং আড়াই মাসের মধ্যে মেরামত করা হয়েছে। অথচ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই একই কাজের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল এবং সময় ধরা হয়েছিল এক বছরেরও বেশি।

সম্প্রতি, পিক-আওয়ারে (বেশি ভিড়ের সময়) এক ট্রেন থেকে পরের ট্রেনের জন্য অপেক্ষার সময় ৮ মিনিট থেকে কমিয়ে ৬ মিনিট করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই সময় কমিয়ে মাত্র ৫ মিনিটে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া মেট্রো রেলের চলার সময়ও সম্প্রতি ১ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

এর বাইরে, ভাড়া ছাড়াও আয় বাড়ানোর জন্য স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থান, ব্যাংক, এটিএম ও সিআরএম বুথ স্থাপন এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তিগুলো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানোর চুক্তিও স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিটি প্রকল্পে খরচ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় নকশা সংশোধন, দর বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দাম তুলনা করে সর্বনিম্ন খরচের প্রাক্কলন তৈরির কাজও চলছে।

মেট্রো রেল পরিচালনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজনও অব্যাহত আছে।

এছাড়া, রিয়েল-টাইম প্রযুক্তি হস্তান্তর, ডিএমটিসিএলের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশে চাকরির সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।