ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা প্রথম জামায়াত দিয়েছিল, পরে আ.লীগ দাবি তোলে: জয়নুল আবেদীন

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপিলের পঞ্চম দিনের শুনানি চলছে। শুনানিতে বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কথা প্রথম জামায়াতে ইসলামীই উপস্থাপন করেছিল। এরপর আওয়ামী লীগও একই দাবি জানায় এবং পরে বিএনপি সেই দাবি মেনে নেয়।

আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

জয়নুল আবেদীন ছাড়াও আদালতে বিএনপির আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরও শুনানি করেন।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। ২২ অক্টোবর ছিল দ্বিতীয় দিনের শুনানি, সেদিন রিট আবেদনকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া তাঁর শুনানি শেষ করেন। এরপর ২৩ অক্টোবর তৃতীয় দিনের এবং ২৮ অক্টোবর চতুর্থ দিনের শুনানি হয়। চতুর্থ দিনে জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন।

গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন। আদালত জানান যে, তাঁরা এই বিষয়ে আপিলটি পুনরায় শুনবেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটির শুনানির দিন ঠিক করা হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

সেদিন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে এনে কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এমন একটি কার্যকর সমাধান চায়, যা বারবার বাধাগ্রস্ত হবে না। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি যেন সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতি আরও প্রশ্ন রেখেছিলেন, যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা কখন থেকে কার্যকর হবে?

এর জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, “গত দেড় দশকে দেশের মানুষ শাসিত না হয়ে বরং নানাভাবে শোষিত হয়েছে। মানুষ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য যে ব্যবস্থাগুলো ছিল, তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ বিচার পায়নি। এ কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটেছে। আর সেই রাজপথই ঠিক করে দিয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে সরকারপ্রধান হবেন। জনগণের এই ক্ষমতাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা যায় না। এসব অবজ্ঞা করলেই বিপ্লবের জন্ম হয়।” এ সময় তিনি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের কথাও উল্লেখ করেন।

এরপরই আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং এই বিষয়ে পুনরায় শুনানির জন্য ২১ অক্টোবর দিনটি ঠিক করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন।

এরপর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়। আদালত এই মামলায় আটজন ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দিয়ে তাঁদের মতামত শোনেন। এঁদের মধ্যে পাঁচজনই সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এই পাঁচজন হলেন– ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। অন্য অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি এটি বাতিলের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে আদালতে তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এছাড়া তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন।

এরপর ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের সূত্র ধরে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়, যা ৩ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এই সংশোধনী পাসের পর আওয়ামী লীগের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ দল) নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে।

সরকার পতনের পর, আপিল বিভাগের সেই ২০১১ সালের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করার জন্য ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট প্রথম আবেদনটি করেন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন– তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

এরপর, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই বছরের ১৬ অক্টোবর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর আলাদাভাবে রিভিউ আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই বিষয়ে আবেদন জানান।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে মোট চারটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেইসব আবেদনের ওপর শুনানি নিয়েই গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং জানান যে, আদালত এই বিষয়ে আপিলটি পুনরায় শুনবেন। এরই ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত মামলাটি আবার আপিল বিভাগের শুনানিতে এসেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান সীমান্তে যুদ্ধের দামামা: সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই আফগানিস্তান

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা প্রথম জামায়াত দিয়েছিল, পরে আ.লীগ দাবি তোলে: জয়নুল আবেদীন

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপিলের পঞ্চম দিনের শুনানি চলছে। শুনানিতে বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কথা প্রথম জামায়াতে ইসলামীই উপস্থাপন করেছিল। এরপর আওয়ামী লীগও একই দাবি জানায় এবং পরে বিএনপি সেই দাবি মেনে নেয়।

আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

জয়নুল আবেদীন ছাড়াও আদালতে বিএনপির আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরও শুনানি করেন।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। ২২ অক্টোবর ছিল দ্বিতীয় দিনের শুনানি, সেদিন রিট আবেদনকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া তাঁর শুনানি শেষ করেন। এরপর ২৩ অক্টোবর তৃতীয় দিনের এবং ২৮ অক্টোবর চতুর্থ দিনের শুনানি হয়। চতুর্থ দিনে জামায়াতের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন।

গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন। আদালত জানান যে, তাঁরা এই বিষয়ে আপিলটি পুনরায় শুনবেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটির শুনানির দিন ঠিক করা হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

সেদিন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে এনে কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এমন একটি কার্যকর সমাধান চায়, যা বারবার বাধাগ্রস্ত হবে না। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি যেন সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতি আরও প্রশ্ন রেখেছিলেন, যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা কখন থেকে কার্যকর হবে?

এর জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, “গত দেড় দশকে দেশের মানুষ শাসিত না হয়ে বরং নানাভাবে শোষিত হয়েছে। মানুষ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য যে ব্যবস্থাগুলো ছিল, তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ বিচার পায়নি। এ কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতন ঘটেছে। আর সেই রাজপথই ঠিক করে দিয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে সরকারপ্রধান হবেন। জনগণের এই ক্ষমতাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করা যায় না। এসব অবজ্ঞা করলেই বিপ্লবের জন্ম হয়।” এ সময় তিনি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের কথাও উল্লেখ করেন।

এরপরই আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং এই বিষয়ে পুনরায় শুনানির জন্য ২১ অক্টোবর দিনটি ঠিক করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ বলে ঘোষণা করেন।

এরপর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়। আদালত এই মামলায় আটজন ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দিয়ে তাঁদের মতামত শোনেন। এঁদের মধ্যে পাঁচজনই সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এই পাঁচজন হলেন– ড. কামাল হোসেন, টিএইচ খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। অন্য অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি এটি বাতিলের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে আদালতে তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এছাড়া তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন।

এরপর ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের সূত্র ধরে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়, যা ৩ জুলাই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এই সংশোধনী পাসের পর আওয়ামী লীগের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ দল) নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে।

সরকার পতনের পর, আপিল বিভাগের সেই ২০১১ সালের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করার জন্য ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট প্রথম আবেদনটি করেন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন– তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

এরপর, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই বছরের ১৬ অক্টোবর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর আলাদাভাবে রিভিউ আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একই বিষয়ে আবেদন জানান।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে মোট চারটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেইসব আবেদনের ওপর শুনানি নিয়েই গত ২৭ আগস্ট আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং জানান যে, আদালত এই বিষয়ে আপিলটি পুনরায় শুনবেন। এরই ধারাবাহিকতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত মামলাটি আবার আপিল বিভাগের শুনানিতে এসেছে।