দেশে সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্য ও তাদের সহযোগী জঙ্গিরা পলাতক থাকায় আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুলের কোনো আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি দেশ ছেড়ে পালানো এসব ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ নারী কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তারা যদি সৎসাহস রাখত, তবে দেশে ফিরে এসে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতো। তাদের যারা সমর্থক ছিল, তারাও বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন এসব ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়।
কারাগারকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এটি দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কারাগার পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অপরিসীম। নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে প্রধান অতিথি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে তিনি নবীন কারারক্ষীদের বিভিন্ন শারীরিক কসরত এবং অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষার কৌশলের চমকপ্রদ প্রদর্শনী উপভোগ করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ, লিখিত পরীক্ষাসহ মোট ছয়টি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন নবীন কারারক্ষী রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোস্তাফা কামাল, কর্নেল তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮৬৬ জন কারারক্ষী ও নারী কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























