ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নন-ইমার্জেন্সি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার প্রতি ওয়াশিংটনের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।

গতকাল জারি করা এক নোটিশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, দূতাব াসের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন মার্কিন নাগরিকদেরও তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঝুঁকি, সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরবর্তী সময়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নন-ইমার্জেন্সি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার প্রতি ওয়াশিংটনের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।

গতকাল জারি করা এক নোটিশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, দূতাব াসের কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন মার্কিন নাগরিকদেরও তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঝুঁকি, সম্ভাব্য সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মতো বিষয়গুলো ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরবর্তী সময়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর ওপর একাধিক হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।