বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উপজেলার কিচক ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন কিচক ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মো. মোফাজ্জল হোসাইন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের উত্তর বেলাইল গ্রামে জামায়াতের নির্বাচনি কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি সমর্থিত ব্যক্তি ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এই হামলা পরিচালনা করেছে। হামলায় কিচক ইউনিয়ন জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. শাহজালাল, কর্মী রফিকুল ইসলাম ও আবু তাহের গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ এখনো মামলাটি নথিভুক্ত করেনি কিংবা কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। জামায়াত নেতাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন কোনো বিশেষ মহলের হয়ে কাজ করায় নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে, যার ফলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে তারা শঙ্কিত।
সংবাদ সম্মেলনে শিবগঞ্জ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীর হোসাইনসহ কিচক ইউনিয়ন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, তারা অভিযোগটি পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার কিছুটা অমিল রয়েছে। তাই এজাহারে প্রকৃত ঘটনার সঠিক বিবরণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















