ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বিশাল জনসভা। এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, সকাল থেকেই দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন, যা জনসভার ব্যাপক জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।
সকাল ৯টার মধ্যেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হতে শুরু করে। সেখানে দেখা যায়, প্রায় ৬৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৪৪ ফুট প্রস্থের এক সুসজ্জিত মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে একটি বিশাল এলইডি স্ক্রিন, যার মাধ্যমে উপস্থিত সকলেই মূল বক্তব্য শুনতে ও দেখতে পারবেন। মঞ্চের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে ব্যানার, যেখানে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা লেখা রয়েছে, যা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
দলীয় সূত্রমতে, আজ বেলা আড়াইটার দিকে তারেক রহমান এই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করবেন। জনসভার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সভামঞ্চ ও এর চারপাশের এলাকা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সিএসএফ-এর তত্ত্বাবধানে অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে জনসভার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।
এই জনসভায় যোগ দিতে গতকাল রাত থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক দলে দলে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। নগরীর প্রধান প্রবেশপথ, বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশনগুলোতে বিএনপির কর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা তাদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনার প্রতিফলন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত এক প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর, এই নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে তিনি আবারও ময়মনসিংহের মাটিতে পা রাখছেন। এই বিশেষ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুরো নগরজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
জামালপুর থেকে আগত বিএনপি কর্মী শাহাব উদ্দিন (৭২) জানান, “আমরা প্রায় ৪০-৫০ জন ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সকালে এখানে এসেছি। আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে আমরা অনেক আগেই চলে এসেছি। এখন শুধু তাঁর আগমনের অপেক্ষা।”
ঈশ্বরগঞ্জ থেকে আগত মান্নান (৪৫) সকাল সকালই সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতিতে খুব সক্রিয় নই। তবে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে এবং তাঁকে সরাসরি দেখতে আমি নিজ আগ্রহেই এখানে ছুটে এসেছি।” এই জনসভা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা দলের সাংগঠনিক শক্তি ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















