ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

এনবিআরের ‘এইও’ সনদ পেল জিহান ফুটওয়্যারসহ ৯ প্রতিষ্ঠান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা ও দ্রুত শুল্কায়নের স্বীকৃতি হিসেবে কুমিল্লার জিহান ফুটওয়্যারসহ দেশের ৯টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর’ (এইও) সনদ প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ হস্তান্তর করা হয়।

জিহান ফুটওয়্যার ছাড়াও এবারের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সুনিভার ফুটওয়্যার, হাতিল ফার্নিচার, এশিয়ান পেইন্টস, বিআরবি কেবলস, ফুটস্টেপ বাংলাদেশ লিমিটেড, ওমেরা সিলিন্ডার, কাটিং এজ এবং এমবিএম গার্মেন্টস লিমিটেড। এর আগে দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ সনদ দেওয়া হয়েছিল।

এনবিআরের নীতিমালা অনুযায়ী, এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব আঙ্গিনায় পণ্য চালানের কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়নের সুযোগ পাবে। ফলে বন্দর থেকে পণ্য সরাসরি আমদানিকারকের গুদামে চলে যাবে। এ ছাড়া বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর আগেই বিল অব এন্ট্রি দাখিলসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এইও সংক্রান্ত ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এমআরএ) স্বাক্ষর করে, তবে সনদপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো ওইসব দেশের বন্দরেও একই ধরনের অগ্রাধিকার পাবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের শতাধিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে।

সনদ প্রাপ্তির পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জিহান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহাজাদা আহমেদ রনি বলেন, ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালা পরিপালন করা কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও এটি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে মানসম্মত বাণিজ্যের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে।

একই অনুষ্ঠানে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ সম্মাননা দেওয়া হয় এনবিআরের ১৭ জন কর্মকর্তাকে। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি ও অনুযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, মুনাফা না হলেও নির্দিষ্ট কর প্রদানের বিধান নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমান কর কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ করার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী কেবল ঘর নয়, দেশকেও নেতৃত্ব দিতে সক্ষম: পর্যটনমন্ত্রী

এনবিআরের ‘এইও’ সনদ পেল জিহান ফুটওয়্যারসহ ৯ প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ১২:৪৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা ও দ্রুত শুল্কায়নের স্বীকৃতি হিসেবে কুমিল্লার জিহান ফুটওয়্যারসহ দেশের ৯টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর’ (এইও) সনদ প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ হস্তান্তর করা হয়।

জিহান ফুটওয়্যার ছাড়াও এবারের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সুনিভার ফুটওয়্যার, হাতিল ফার্নিচার, এশিয়ান পেইন্টস, বিআরবি কেবলস, ফুটস্টেপ বাংলাদেশ লিমিটেড, ওমেরা সিলিন্ডার, কাটিং এজ এবং এমবিএম গার্মেন্টস লিমিটেড। এর আগে দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ সনদ দেওয়া হয়েছিল।

এনবিআরের নীতিমালা অনুযায়ী, এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব আঙ্গিনায় পণ্য চালানের কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়নের সুযোগ পাবে। ফলে বন্দর থেকে পণ্য সরাসরি আমদানিকারকের গুদামে চলে যাবে। এ ছাড়া বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর আগেই বিল অব এন্ট্রি দাখিলসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এইও সংক্রান্ত ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এমআরএ) স্বাক্ষর করে, তবে সনদপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো ওইসব দেশের বন্দরেও একই ধরনের অগ্রাধিকার পাবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের শতাধিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে।

সনদ প্রাপ্তির পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জিহান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহাজাদা আহমেদ রনি বলেন, ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালা পরিপালন করা কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও এটি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে মানসম্মত বাণিজ্যের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে।

একই অনুষ্ঠানে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ সম্মাননা দেওয়া হয় এনবিআরের ১৭ জন কর্মকর্তাকে। অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি ও অনুযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, মুনাফা না হলেও নির্দিষ্ট কর প্রদানের বিধান নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমান কর কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ করার ইঙ্গিত দেন তিনি।