বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের সাথে দ্বিমুখী আচরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে নারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, একদিকে সাধারণ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ভিন্ন মতাবলম্বী নারীদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে—এই ধরনের দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। যারা ক্ষমতার বাইরে থাকতেই মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের হাতে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়।
মঙ্গলবার সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থন ও আসন্ন গণভোটের প্রচারণায় এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের কোনো কর্মী বা নেতা যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। তারা যে ব্যবস্থা নেবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু আপনারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার কে?” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের কর্মীরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে মাথা নত করে না। চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ছিল বুলেটের বিরুদ্ধে, আর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনতা আজ ঐক্যবদ্ধ। দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ চূড়ান্তভাবে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করবে। তিনি মন্তব্য করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে বাংলাদেশের জয় হবে, আর ‘না’ জয়ী হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে।
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ভিশন তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যে অপরাজনীতি বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং ভিনদেশের তাঁবেদারি করেছে, সেই রাজনীতির অবসান চায় আজকের যুবসমাজ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কখনো সম্পদের পাহাড় গড়বেন না। প্রতি বছর তাদের এবং তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে তারা বাধ্য থাকবেন।
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, বরং সম্মানের সাথে কাজ তুলে দিতে চাই। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” এমনকি যারা বর্তমানে সমাজে বিশৃঙ্খলা বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের সংশোধন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া যশোর-১ থেকে যশোর-৬ আসনের দলীয় প্রার্থীরাসহ স্থানীয় জোট নেতারা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















