ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজায় ‘শক্তিশালী’ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজায় অবিলম্বে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই নির্দেশের ঠিক আগেই, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের দেওয়া একটি কফিনে নতুন কোনো জিম্মির দেহ না থাকার কথা জানায় ইসরায়েল। এরপরই নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এমন কড়া বার্তা এলো।

ইসরায়েল জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে কফিনের ভেতরের দেহাবশেষ গাজায় থাকা বাকি ১৩ জন জিম্মির কারো নয়। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হামাসের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।

অন্যদিকে, হামাসও একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েল গাজায় নতুন করে আগ্রাসন চালানোর জন্য “অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা অজুহাত” তৈরি করছে। হামাসের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলই জিম্মিদের মরদেহ খুঁজে বের করার কাজে বাধা দিচ্ছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাস বারবার ভাঙছে। এর জবাবে হামাসের ওপর তীব্র হামলা চালানো হবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস গাজায় নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে। এছাড়া হামাস ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে’ বলেও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে।

সোমবার রাতে হামাস একজন ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, তারা ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখেছে যে এই দেহাবশেষ আসলে দুই বছর আগেই গাজা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সত্যিই গাজায় নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। তবে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার আশঙ্কায় তারা আরেক জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তরের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, নেতানিয়াহুর এই নতুন হামলা শুরুর নির্দেশের খবরে গাজায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজা সিটি এবং খান ইউনিসের মতো কয়েকটি এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার নির্দেশের খবর শোনার সাথে সাথেই রাস্তাঘাটের লোকজন দ্রুত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। জঙ্গিবিমানের হামলা শুরু হওয়ার আগেই সবাই নিজ নিজ বাড়ি বা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে চাইছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অভিযোগ করেছেন, হামাস গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এজন্য হামাসকে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: দ্রুত ও প্রকাশ্যে বিচার চাইলেন মাওলানা জালালুদ্দীন

গাজায় ‘শক্তিশালী’ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আপডেট সময় : ০১:৩০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজায় অবিলম্বে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই নির্দেশের ঠিক আগেই, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের দেওয়া একটি কফিনে নতুন কোনো জিম্মির দেহ না থাকার কথা জানায় ইসরায়েল। এরপরই নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এমন কড়া বার্তা এলো।

ইসরায়েল জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে কফিনের ভেতরের দেহাবশেষ গাজায় থাকা বাকি ১৩ জন জিম্মির কারো নয়। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হামাসের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে।

অন্যদিকে, হামাসও একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েল গাজায় নতুন করে আগ্রাসন চালানোর জন্য “অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা অজুহাত” তৈরি করছে। হামাসের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলই জিম্মিদের মরদেহ খুঁজে বের করার কাজে বাধা দিচ্ছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাস বারবার ভাঙছে। এর জবাবে হামাসের ওপর তীব্র হামলা চালানো হবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস গাজায় নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে। এছাড়া হামাস ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে’ বলেও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে।

সোমবার রাতে হামাস একজন ইসরায়েলি জিম্মির দেহাবশেষ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, তারা ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখেছে যে এই দেহাবশেষ আসলে দুই বছর আগেই গাজা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সত্যিই গাজায় নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। তবে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার আশঙ্কায় তারা আরেক জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তরের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, নেতানিয়াহুর এই নতুন হামলা শুরুর নির্দেশের খবরে গাজায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজা সিটি এবং খান ইউনিসের মতো কয়েকটি এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার নির্দেশের খবর শোনার সাথে সাথেই রাস্তাঘাটের লোকজন দ্রুত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। জঙ্গিবিমানের হামলা শুরু হওয়ার আগেই সবাই নিজ নিজ বাড়ি বা তাঁবুতে আশ্রয় নিতে চাইছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অভিযোগ করেছেন, হামাস গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এজন্য হামাসকে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’।