জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশকে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দলটি এই সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দ্রুত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি ও এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। তাদের মতে, সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা অপরিহার্য।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, “আমরা কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। অবিলম্বে সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে হবে এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।”
দলটি দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি করে আসছে যে, সনদের অধীনে একটি গণভোটের আয়োজন করা হোক, যাতে জনগণ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বিবেচনা করার সুযোগ পায়।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জামায়াতের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে তারা নির্বাচন কমিশনকে ১৮-দফা সুপারিশও দিয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে অন্যতম একটি দাবি হলো—জাতীয় নির্বাচনের আগেই রাজধানী ও জেলা পর্যায়ে জুলাই সনদের বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো এবং গণভোটের কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
জামায়াত মনে করে, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হলে তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রশাসনিক জটিলতাও বাড়াতে পারে। একারণে দলটি যুক্তি দিচ্ছে যে, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে গণভোট সম্পন্ন করা উত্তম। জামায়াতের একজন নেতা বলেন, “জাতিকে জানতে হবে, কী পরিবর্তন আসছে, কাদের নিয়ে এই পরিবর্তন হচ্ছে—তবেই তারা সুসংগঠিতভাবে ভোট দেবে।”
তবে জামায়াত বলেছে, সনদে স্বাক্ষর হলেও এখনও কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি—যেমন, আদেশ জারির তারিখ, এর আইনি ভিত্তি এবং গণভোটের নির্ধারিত সময়সূচি। দলটি এ বিষয়গুলোতে স্পষ্টতা কামনা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের এই ইতিবাচক মনোভাব জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমর্থন দিতে পারে। তবে এই সনদের বাস্তবায়নকে গ্রহণযোগ্য ও গতিশীল করতে হলে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনই যথেষ্ট নয়, বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, আইনগত প্রস্তুতি এবং জনগণের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও জরুরি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, জামায়াতের প্রস্তাবিত ‘নভেম্বরে গণভোট’ আয়োজনের সময়সূচি একটি সুস্পষ্ট উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে, জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদেশ জারি হয়, তার ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন আইন বা বিলের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তা বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সরকারের প্রতিশ্রুতি, বিরোধী দলগুলো এবং নাগরিক সমাজের একযোগে অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
রিপোর্টারের নাম 
























