ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না, বিদেশি শক্তির প্রতি জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্যের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখলেও কোনো দেশের চোখ রাঙানি বা প্রভুত্ব মেনে নেবে না এ দেশের মানুষ।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সকল সভ্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার। এ জাতি কারো কাছে মাথা নত করবে না এবং কাউকে প্রভু হিসেবে স্বীকার করবে না। সবাইকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে তা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান ও সাম্যের ভিত্তিতে হতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বিদেশি মহলের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যখন এ দেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু পক্ষ অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের অনুরোধ জানান যেন তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করেন। অতীতে যারা এ ধরনের চেষ্টা করেছেন, তাদের সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারো করদরাজ্য নয়, বরং আত্মমর্যাদাশীল একটি রাষ্ট্র।

ডা. শফিকুর রহমান একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এ দেশের মানুষ সম্মানের সাথে বিশ্বদরবারে নিজেদের পরিচয় দেবে। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না, বরং এ দেশের মানুষ গর্বের সাথে বলবে—এটি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের সাবেক এক কূটনীতিক বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। জনসভায় জামায়াত আমিরের এই কড়া প্রতিক্রিয়া মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ দেশের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং সেখানে অন্য কারো অনধিকার চর্চা কাম্য নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শুদ্ধি অভিযান: দুর্নীতির অভিযোগে পদচ্যুত কর্মকর্তা

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না, বিদেশি শক্তির প্রতি জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্যের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখলেও কোনো দেশের চোখ রাঙানি বা প্রভুত্ব মেনে নেবে না এ দেশের মানুষ।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সকল সভ্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার। এ জাতি কারো কাছে মাথা নত করবে না এবং কাউকে প্রভু হিসেবে স্বীকার করবে না। সবাইকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে তা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান ও সাম্যের ভিত্তিতে হতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বিদেশি মহলের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যখন এ দেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু পক্ষ অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের অনুরোধ জানান যেন তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করেন। অতীতে যারা এ ধরনের চেষ্টা করেছেন, তাদের সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারো করদরাজ্য নয়, বরং আত্মমর্যাদাশীল একটি রাষ্ট্র।

ডা. শফিকুর রহমান একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এ দেশের মানুষ সম্মানের সাথে বিশ্বদরবারে নিজেদের পরিচয় দেবে। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না, বরং এ দেশের মানুষ গর্বের সাথে বলবে—এটি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের সাবেক এক কূটনীতিক বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। জনসভায় জামায়াত আমিরের এই কড়া প্রতিক্রিয়া মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ দেশের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং সেখানে অন্য কারো অনধিকার চর্চা কাম্য নয়।