জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কী সমালোচনা করল, তাতে বিএনপির কিছু যায় আসে না। জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করলে উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমেই এর জবাব দেওয়া হবে।
রোববার রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী (ডিগবাজি) মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও তা রক্ষার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই অর্জিত স্বাধীনতাকে নতুন করে রক্ষা করেছে। এই আন্দোলনে বিএনপির ৪১৯ জন নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
বিএনপির শাসনামলের সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। নারী শিক্ষাকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করা, কৃষকদের ঋণ প্রদান এবং সুদ মওকুফের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিএনপিই নিয়েছিল। দলটির দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হয়, তা বিএনপির জানা আছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্থির। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান অন্তত বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করতে এবং পর্যায়ক্রমে তা শতভাগে উন্নীত করতে। আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করলে আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সাধারণ মানুষের কল্যানে কাজ করে যাব।”
জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হবে আগামী দিনের সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিএনপি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত।
কুমিল্লার এই নির্বাচনি জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচনি সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান ওয়াসিম এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আরও অনেকে। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























