আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তার মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই কমিশনের মেয়াদ এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
এর আগে, গত ২৬ জুন এই বিষয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৯ জুলাই তারিখে আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই কমিটিকে কমিশনে রূপান্তরিত করার কথা জানানো হয়।
এই কমিশনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। কমিশনকে প্রাথমিকভাবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
মেয়াদ বাড়ানোর এই নতুন আদেশটি আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে প্রজ্ঞাপনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন গঠনের সময় জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ এবং দেশের বাইরে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। জোরালো অভিযোগ আছে যে, এই নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং একটি সাজানো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলকে নির্বাচিত করা হয়েছে।
একারণেই, বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা যায়, সেই লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য সরকার ‘দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬’-এর অধীনে এই কমিশনটি গঠন করে।
এই কমিশনের অন্য চারজন সদস্য হলেন—সাবেক অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক (সুপণ), ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম।
রিপোর্টারের নাম 






















