ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয় তারাই গণভোটকে ভয় পায় : মুজিবুর রহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয়, তারাই গণভোটকে ভয় পায়। একারণে তারা গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা না করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভুল পথে চালিত করছে। তিনি পিআর পদ্ধতিকে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নব্য ফ্যাসিবাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে আসছে, সেই পদ্ধতিতে দেশের মানুষ আর নির্বাচন চায় না। কারণ এই পদ্ধতিতে জনগণের সরকার গঠিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতিকে তিনি ‘সরকারকে স্বৈরাচার হিসেবে তৈরি করার পদ্ধতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, একদলীয় শাসনব্যবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, আর হবেও না। যদি সব দলের প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হয়, তবে কোনো একক দল স্বৈরাচারী হতে পারবে না এবং একদলীয় শাসনের বদলে বহুদলীয় সংসদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। একারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা তাণ্ডবে’ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি আরও মন্তব্য করেন, ২৮ অক্টোবর থেকেই ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের’ উত্থান ঘটেছিল। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সেদিন সারা দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং জামায়াত-শিবিরের ১৪ জনকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে, যা ‘মানব সভ্যতার এক কলঙ্কজনক অধ্যায়’। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় মামলা হলেও শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি, কারণ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সেই মামলা ‘গায়েব’ করে দিয়েছিল। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দ্বারা পরিচালিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য ছিল জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতাদের সেদিনই হত্যা করা। একারণে তারা সেদিন সারা দেশকে রক্তাক্ত করেছিল। ওই ঘটনায় মামলা করা হলেও পরে ‘অধিকতর তদন্তের’ নামে তা স্থগিত রাখা হয়। এরপর হাসিনা ক্ষমতায় এসে বেআইনিভাবে মামলাটি বাতিল করে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সেই মামলা পুনরুজ্জীবিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় মহানগরীর হলরুমে আয়োজিত এই সভায় নিহত সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ মাসুমের মা শামসুর নাহার রুবি এবং নিহত হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সাহসী মায়ের প্রয়োজন। মা-বাবার অনুপ্রেরণা পেলে সন্তানরা ইসলাম ও দেশের জন্য জীবন দিতে দ্বিধা করবে না। তারা বলেন, “আমাদের সন্তানদের আমরা দ্বীন কায়েমের জন্য আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করলাম। তাদের আত্মদানের পথ ধরেই চব্বিশের বিপ্লব এসেছে।” তারা আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে’ হত্যার মাধ্যমেই ‘হাসিনার ফ্যাসিজমের’ সূচনা হয়েছিল। তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ পরিচালিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং হাসিনাসহ তার ‘দোসরদের’ ফাঁসির দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়ে ‘হাসিনা পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন’। তার অভিযোগ, ‘হাসিনার নির্দেশে’ ২৮ অক্টোবর নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এবং হত্যার পর লাশের ওপর নৃত্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এতকিছুর পরেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জীবন ও রক্ত দিয়েছে, কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি, কারণ তারা ‘এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী’। তিনি ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যায়’ শহীদদের পরিবারের মতো ২৮ অক্টোবরের ‘গণহত্যায়’ শিকার পরিবার ও আহত-পঙ্গুত্ববরণকারীদের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম মন্তব্য করেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ‘পল্টন হত্যাযজ্ঞের’ মাধ্যমেই দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ধসের পথ খুলে গিয়েছিল। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে শাহাদতবরণকারীদের’ স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসার সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।

জার্মানির পার্লামেন্টারিয়ান স্টেট সেক্রেটারি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী জোহান সাথফের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে ঢাকার জার্মান দূতাবাস একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটস ও ইভানা লটসের আমন্ত্রণে গতকাল সন্ধ্যায় জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও অংশ নেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জার্মান সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং সেদেশের সরকার ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইসাথে তিনি বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘লগিবৈঠা দিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার’ প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল এবং আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সকল শাখা সংগঠন ও দেশবাসীকে এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সর্বাত্মক সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে আবুল কালাম নামে এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ৫০ আসনে জামায়াতকে হারানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয় তারাই গণভোটকে ভয় পায় : মুজিবুর রহমান

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয়, তারাই গণভোটকে ভয় পায়। একারণে তারা গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা না করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভুল পথে চালিত করছে। তিনি পিআর পদ্ধতিকে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নব্য ফ্যাসিবাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে আসছে, সেই পদ্ধতিতে দেশের মানুষ আর নির্বাচন চায় না। কারণ এই পদ্ধতিতে জনগণের সরকার গঠিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। নির্বাচনের বর্তমান পদ্ধতিকে তিনি ‘সরকারকে স্বৈরাচার হিসেবে তৈরি করার পদ্ধতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, একদলীয় শাসনব্যবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, আর হবেও না। যদি সব দলের প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ গঠিত হয়, তবে কোনো একক দল স্বৈরাচারী হতে পারবে না এবং একদলীয় শাসনের বদলে বহুদলীয় সংসদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। একারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ‘লগি-বৈঠা তাণ্ডবে’ নিহতদের পরিবারের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি আরও মন্তব্য করেন, ২৮ অক্টোবর থেকেই ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের’ উত্থান ঘটেছিল। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সেদিন সারা দেশে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং জামায়াত-শিবিরের ১৪ জনকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে, যা ‘মানব সভ্যতার এক কলঙ্কজনক অধ্যায়’। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় মামলা হলেও শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি, কারণ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সেই মামলা ‘গায়েব’ করে দিয়েছিল। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দ্বারা পরিচালিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য ছিল জামায়াতের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতাদের সেদিনই হত্যা করা। একারণে তারা সেদিন সারা দেশকে রক্তাক্ত করেছিল। ওই ঘটনায় মামলা করা হলেও পরে ‘অধিকতর তদন্তের’ নামে তা স্থগিত রাখা হয়। এরপর হাসিনা ক্ষমতায় এসে বেআইনিভাবে মামলাটি বাতিল করে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সেই মামলা পুনরুজ্জীবিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় মহানগরীর হলরুমে আয়োজিত এই সভায় নিহত সাইফুল্লাহ মুহাম্মদ মাসুমের মা শামসুর নাহার রুবি এবং নিহত হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সাহসী মায়ের প্রয়োজন। মা-বাবার অনুপ্রেরণা পেলে সন্তানরা ইসলাম ও দেশের জন্য জীবন দিতে দ্বিধা করবে না। তারা বলেন, “আমাদের সন্তানদের আমরা দ্বীন কায়েমের জন্য আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করলাম। তাদের আত্মদানের পথ ধরেই চব্বিশের বিপ্লব এসেছে।” তারা আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে’ হত্যার মাধ্যমেই ‘হাসিনার ফ্যাসিজমের’ সূচনা হয়েছিল। তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ পরিচালিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং হাসিনাসহ তার ‘দোসরদের’ ফাঁসির দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার প্রকাশ্য নির্দেশ দিয়ে ‘হাসিনা পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম নেতৃত্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন’। তার অভিযোগ, ‘হাসিনার নির্দেশে’ ২৮ অক্টোবর নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এবং হত্যার পর লাশের ওপর নৃত্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এতকিছুর পরেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা জীবন ও রক্ত দিয়েছে, কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি, কারণ তারা ‘এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী’। তিনি ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যায়’ শহীদদের পরিবারের মতো ২৮ অক্টোবরের ‘গণহত্যায়’ শিকার পরিবার ও আহত-পঙ্গুত্ববরণকারীদের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম মন্তব্য করেছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ‘পল্টন হত্যাযজ্ঞের’ মাধ্যমেই দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ধসের পথ খুলে গিয়েছিল। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখা এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে শাহাদতবরণকারীদের’ স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসার সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং ডা. ফখরুদ্দীন মানিক।

জার্মানির পার্লামেন্টারিয়ান স্টেট সেক্রেটারি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী জোহান সাথফের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে ঢাকার জার্মান দূতাবাস একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যোগ দেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটস ও ইভানা লটসের আমন্ত্রণে গতকাল সন্ধ্যায় জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও অংশ নেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জার্মান সরকারের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং সেদেশের সরকার ও জনগণের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইসাথে তিনি বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘লগিবৈঠা দিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার’ প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল এবং আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সকল শাখা সংগঠন ও দেশবাসীকে এসব কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সর্বাত্মক সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে আবুল কালাম নামে এক যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।