ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চীন ও আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উন্নত সংস্করণে সই করেছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উন্নত সংস্করণে স্বাক্ষর করেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের পাশাপাশি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কনীতির বাস্তবতায় এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের প্রতি একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্র পরিষদের বিবৃতি অনুসারে, ‘৩.০ সংস্করণ’ নামে পরিচিত এই নতুন চুক্তিটি কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের মতো খাতগুলোতেও সহযোগিতা প্রসারিত করবে। এটি ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া চীন ও আসিয়ানের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে আসিয়ান দেশগুলো চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার প্রভাবে চীন-আসিয়ান বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) চীন ও আসিয়ানের বাণিজ্যের পরিমাণ ৭৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বেশি। এই বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমন্বিত উৎপাদন শৃঙ্খলকে ঘিরে হলেও, এর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভোক্তাদের জন্য চীনের তৈরি পণ্যও ক্রমবর্ধমান হারে যুক্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার আসিয়ান সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে লি চিয়াং বলেছেন, চীন ও আসিয়ানের মধ্যে এই গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক ‘বিস্তৃত ও উচ্চমানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ফলপ্রসূ হয়েছে, বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, এবং আসিয়ান দেশগুলো জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করছে।”

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ঝিউউ চেন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘৩.০ সংস্করণের এই বাণিজ্যচুক্তিটি এমন এক সময়ে আসলো, যখন চীন আসিয়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে চাইছে।’

তিনি বলেন, “এটি চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ছে এবং এ অবস্থায় চীনের আসিয়ান দেশগুলোকে প্রয়োজন। একই সময়ে, আসিয়ানের জন্যও এটি একটি সুযোগ— তারা এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হতে পারে। এটি উভয় পক্ষের জন্যই একটি ‘উইন-উইন চুক্তি’।”

লি চিয়াং ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, “একতরফা নীতি এবং সংরক্ষণবাদ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বহিঃশক্তি আমাদের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমানভাবে হস্তক্ষেপ করছে এবং অনেক দেশ অন্যায়ভাবে উচ্চ শুল্কের শিকার হয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও রবিবার আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। আসিয়ানে থাকাকালে ট্রাম্প কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটি তার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কৌশলকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে চুক্তি করা হয়।

এই চুক্তিগুলো মূলত ট্রাম্পের নির্ধারিত পারস্পরিক শুল্কহারকেই চূড়ান্ত করে, যা চলতি বছরের শুরুতে এই চারটি দেশের জন্য ১৯ থেকে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প ও শি-এর বৈঠকে শুল্ক এবং বাণিজ্য বাধাই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ৫০ আসনে জামায়াতকে হারানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

চীন ও আসিয়ান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উন্নত সংস্করণে সই করেছে

আপডেট সময় : ০৩:৫২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উন্নত সংস্করণে স্বাক্ষর করেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনের পাশাপাশি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কনীতির বাস্তবতায় এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের প্রতি একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্র পরিষদের বিবৃতি অনুসারে, ‘৩.০ সংস্করণ’ নামে পরিচিত এই নতুন চুক্তিটি কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের মতো খাতগুলোতেও সহযোগিতা প্রসারিত করবে। এটি ২০১০ সালে কার্যকর হওয়া চীন ও আসিয়ানের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে আসিয়ান দেশগুলো চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার প্রভাবে চীন-আসিয়ান বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) চীন ও আসিয়ানের বাণিজ্যের পরিমাণ ৭৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ বেশি। এই বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমন্বিত উৎপাদন শৃঙ্খলকে ঘিরে হলেও, এর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভোক্তাদের জন্য চীনের তৈরি পণ্যও ক্রমবর্ধমান হারে যুক্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার আসিয়ান সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে লি চিয়াং বলেছেন, চীন ও আসিয়ানের মধ্যে এই গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক ‘বিস্তৃত ও উচ্চমানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ফলপ্রসূ হয়েছে, বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, এবং আসিয়ান দেশগুলো জনগণের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করছে।”

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ঝিউউ চেন আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘৩.০ সংস্করণের এই বাণিজ্যচুক্তিটি এমন এক সময়ে আসলো, যখন চীন আসিয়ানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে চাইছে।’

তিনি বলেন, “এটি চীনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ছে এবং এ অবস্থায় চীনের আসিয়ান দেশগুলোকে প্রয়োজন। একই সময়ে, আসিয়ানের জন্যও এটি একটি সুযোগ— তারা এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হতে পারে। এটি উভয় পক্ষের জন্যই একটি ‘উইন-উইন চুক্তি’।”

লি চিয়াং ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, “একতরফা নীতি এবং সংরক্ষণবাদ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বহিঃশক্তি আমাদের অঞ্চলে ক্রমবর্ধমানভাবে হস্তক্ষেপ করছে এবং অনেক দেশ অন্যায়ভাবে উচ্চ শুল্কের শিকার হয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও রবিবার আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। আসিয়ানে থাকাকালে ট্রাম্প কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এটি তার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কৌশলকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে চুক্তি করা হয়।

এই চুক্তিগুলো মূলত ট্রাম্পের নির্ধারিত পারস্পরিক শুল্কহারকেই চূড়ান্ত করে, যা চলতি বছরের শুরুতে এই চারটি দেশের জন্য ১৯ থেকে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প ও শি-এর বৈঠকে শুল্ক এবং বাণিজ্য বাধাই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে