ঢাকা, [আজকের তারিখ]: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ব্যবহার করে এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন কিনা। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে, ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে বলছে— ‘আমাদের জন্য কাজ করুন, আপনার বিকাশ নম্বর দিন, আমরা সেখানে কিছু পাঠাব।’ আমি পত্রিকায় এটি পড়েছি। প্রশ্ন হলো, এটি কি নির্বাচনী আচরণবিধির আওতায় পড়ে? টাকা দিয়ে ভোট কেনা কি আচরণবিধি ভঙ্গ করে না?”
প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে তিনি বলেন, কোকোর মৃত্যু ছিল অকালমৃত্যু, স্বাভাবিক নয়। তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদের সম্মিলিত নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলেই কোকোর মৃত্যু হয়েছে। রিজভী স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমনের জন্য তৎকালীন সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার চোখে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং ধোঁয়ার মধ্যে শ্বাসরোধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি জানান, এই নিপীড়নের পৈশাচিক চিত্র সুদূর মালয়েশিয়া থেকে আরাফাত রহমান কোকো প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তখন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে সামাল দিতে পারেননি এবং দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
রিজভী আরও বলেন, কোকোর লাশ দেশে আসার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তখন পুলিশের হয়রানির শিকার ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা টেলিভিশনে দেখেছি, মৃত সন্তানের লাশ কোলে নিয়ে বসে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। শোক জানাতে যাওয়া বিএনপির নেতাকর্মী তো বটেই, দেশের বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছিল।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গুলশান কার্যালয়ে শোক জানিয়ে বাসায় ফেরার আগেই তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদের লোমহর্ষক অত্যাচারের নিদর্শন।
তিনি বলেন, অনেক রক্তস্রোত ও ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ এই দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন বাহিনীর নির্যাতন, আয়নাঘর এবং রিমান্ডের নামে নির্যাতনের পরও জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে। রিজভীর মতে, যারা জনগণের নেতা এবং জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শেষ পরিণতি পালিয়ে যাওয়া। ৫ আগস্ট তারই প্রমাণ। তিনি এটিকে প্রকৃতির নিয়ম এবং আল্লাহর বিধান বলে উল্লেখ করেন, কারণ কোনো অত্যাচারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বিএনপি চায় একটি অন্তর্বর্তী সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে— এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।
রিপোর্টারের নাম 

























