জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। শনিবার দুপুরে গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন এই দাবি করেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে দাবি করেছিলেন যে, বিএনপি ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে। এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহাদী আমীন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা এমন একটি দাবি করেছেন যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং পারবেনও না। কারণ, তিনি যে তথ্যের কথা বলছেন, তার ন্যূনতম বাস্তবতা কিংবা সত্যতা নেই।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একটি রাজনৈতিক অপকৌশল ও অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়। যদি ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়ে থাকে, তবে সেটি হয় অজ্ঞতা, নয়তো সচেতন অপকৌশল। মাহাদী আমীন জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অপপ্রচার, অপকৌশল কিংবা অপরাজনীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাহাদী আমীন বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়ন। নিজেদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপি ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে। সীমান্তে ফেলানি হত্যার পর সবার আগে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছে দলটি। দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনীতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের অংশ, যা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাহাদী আমীন বিএনপির ‘ইলেকশন হটলাইন’ চালুর বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া, ভোটারদের অভিযোগ গ্রহণ এবং তাদের মতামত জানার জন্য এই হটলাইন চালু করা হয়েছে। হটলাইনের নম্বর ১৬৫৪৩ এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৮০৬৯৭৭৫৭৭। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বহু মানুষ এই হটলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সমাধান পেয়েছেন।
এ সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে মাহাদী আমীন বলেন, একটি প্রতারক চক্র ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু জায়গায় টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এই কার্ডের নামে কেউ টাকা চাইলে সেটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে দলকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিং শেষে মাহাদী আমীন আশা প্রকাশ করেন, দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার বন্ধ হবে এবং একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে উঠবে।
রিপোর্টারের নাম 

























