ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘গাজা যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি’: সব মৃত জিম্মির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত চলবে অভিযান, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, গাজা যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।

তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত হামাস সব মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেবে, ততদিন গাজায় এই যুদ্ধ থামবে না।

সোমবার জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পদমর্যাদার ইউনিট কমান্ডারদের এক সম্মেলনে সেনাপ্রধান জামির বলেন, “আমরা একটি পবিত্র মিশনের মধ্যে আছি এবং এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য দুটি— গাজায় নিহত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা এবং হামাসের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখা।”

তিনি আরও বলেন, “আইডিএফ অতীতকে কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকায়। যা আমাদের নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য, আমরা অবশ্যই তা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করব।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের অধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েই সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানালে গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ট্রাম্পের দেওয়া ২০-দফা সম্বলিত পরিকল্পনাটি ছিল তিন স্তরবিশিষ্ট। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রথম স্তরেই হামাস জীবিত সব ইসরায়েলি জিম্মি এবং মৃত জিম্মিদের মরদেহ বা দেহাবশেষ হস্তান্তর করবে।

সেই শর্ত মেনে হামাস শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে থাকা জীবিত ২০ জন জিম্মির প্রত্যেককে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি শুরু হয়েছে মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে।

হামাসের ভাষ্যমতে, তাদের হাতে থাকা ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি মারা গেছেন এবং তাদের সবার মরদেহ ঠিক কোথায় আছে, তা গোষ্ঠীটির বর্তমান হাইকমান্ডের জানা নেই। হামাস আরও বলেছে, যেসব সদস্যরা এই তথ্য জানত, তারা আইডিএফের বিভিন্ন অভিযানের সময় নিহত হয়েছে।

তবে, আইডিএফ এই যুক্তি মানতে নারাজ এবং তারা হামাসের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের তথ্যমতে, ওই ২৮ জন মৃত জিম্মির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ বা দেহাবশেষ হামাস হস্তান্তর করেছে; এখনও ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া বাকি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাক-আফগান উত্তেজনা: আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইসহাক দারের ফোনালাপ

‘গাজা যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি’: সব মৃত জিম্মির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত চলবে অভিযান, হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, গাজা যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।

তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত হামাস সব মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেবে, ততদিন গাজায় এই যুদ্ধ থামবে না।

সোমবার জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পদমর্যাদার ইউনিট কমান্ডারদের এক সম্মেলনে সেনাপ্রধান জামির বলেন, “আমরা একটি পবিত্র মিশনের মধ্যে আছি এবং এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য দুটি— গাজায় নিহত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা এবং হামাসের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখা।”

তিনি আরও বলেন, “আইডিএফ অতীতকে কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকায়। যা আমাদের নৈতিক ও পেশাগত কর্তব্য, আমরা অবশ্যই তা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করব।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের অধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েই সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানালে গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ট্রাম্পের দেওয়া ২০-দফা সম্বলিত পরিকল্পনাটি ছিল তিন স্তরবিশিষ্ট। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রথম স্তরেই হামাস জীবিত সব ইসরায়েলি জিম্মি এবং মৃত জিম্মিদের মরদেহ বা দেহাবশেষ হস্তান্তর করবে।

সেই শর্ত মেনে হামাস শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে থাকা জীবিত ২০ জন জিম্মির প্রত্যেককে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি শুরু হয়েছে মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে।

হামাসের ভাষ্যমতে, তাদের হাতে থাকা ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি মারা গেছেন এবং তাদের সবার মরদেহ ঠিক কোথায় আছে, তা গোষ্ঠীটির বর্তমান হাইকমান্ডের জানা নেই। হামাস আরও বলেছে, যেসব সদস্যরা এই তথ্য জানত, তারা আইডিএফের বিভিন্ন অভিযানের সময় নিহত হয়েছে।

তবে, আইডিএফ এই যুক্তি মানতে নারাজ এবং তারা হামাসের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের তথ্যমতে, ওই ২৮ জন মৃত জিম্মির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ বা দেহাবশেষ হামাস হস্তান্তর করেছে; এখনও ১৩ জনের মরদেহ পাওয়া বাকি।