ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মানবাধিকার কমিশন আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগ জোরালো রূপ নিয়েছে। আইন ও বিচার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা রোধে মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের স্বাধীনতা ও নিয়োগ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিশ্রুতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন কার্যকর করা ছিল বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো থমকে যাওয়ায় বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং: জনজীবনে চরম নাভিশ্বাস

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০১:১২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মানবাধিকার কমিশন আইন ও সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগ জোরালো রূপ নিয়েছে। আইন ও বিচার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা রোধে মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের স্বাধীনতা ও নিয়োগ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত জনমনে সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রসংস্কারের প্রতিশ্রুতির সাথে বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন কার্যকর করা ছিল বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো থমকে যাওয়ায় বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।