একটি দল ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ লোভ দেখিয়ে ভোট নিতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও দশ দলীয় জোটের রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে দশ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, এদেশের জনগণ আর বোকা নয় যে তারা এই প্রলোভনে সাড়া দেবে। একইসাথে তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার আহ্বান জানান।
আখতার হোসেনের দাবি, ছাত্র-জনতা ‘৩৬ জুলাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে, তাই এখন লোভ দেখিয়ে কোনো কাজ হবে না। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে জনতা দশ দলকে সরকারে বসাবে। শুধু রাষ্ট্রীয় সংস্কার নয়, রংপুর অঞ্চলের মানুষের বৈষম্য দূরীকরণেও দশ দল কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতাল ও মারমাসহ সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দশ দলীয় সরকারের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এদেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “আমরা আর প্রতিবেশী পাল্টাতে চাই না। প্রতিবেশীরা যদি আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করে, আমরাও তাদের সাথে ভালো আচরণ করব।” তিস্তা নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি বন্ধ করা এবং বন্যার সময় তাদের ইচ্ছামতো পানি ছেড়ে দেওয়া আর মেনে নেওয়া হবে না। পানি বন্ধ বা ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশকে আগাম জানাতে হবে বলে তিনি জানান।
গণ ভোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টি ‘না ভোটের’ পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদেরকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই ‘হ্যাঁ ভোটে’ সিল মারতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এটিএম আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিগবাতুল্লাসহ দশ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 






















