ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৯৯ দিন পর হাসপাতাল ছাড়ল মাইলস্টোনের দগ্ধ শিক্ষার্থী নাভিদ

মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. নাভিদ নেওয়াজের শরীরের ৪৫ শতাংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সেই ভয়াবহ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজন শিক্ষার্থীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই শিক্ষার্থীর নাম মো. নাভিদ নেওয়াজ, বয়স ১২। টানা ৯৯ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ার পর তাকে সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাভিদ মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। নাভিদের বাবা ইকবাল হোসেন, তাদের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়। পরিবারটি এখন ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকে।

নাভিদকে নিয়ে এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলো। তবে এখনও সেখানে পাঁচজন ভর্তি আছেন। এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শুধু এই হাসপাতালেই ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মো. নাভিদ নেওয়াজ নামের এই ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই সোমবার দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে রিলিজ দেওয়া হলো।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখনও পাঁচজন আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন আছেন। সবার অবস্থাই ভালোর দিকে। আশা করছি, ইনশাল্লাহ তারাও খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। আর যাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তারাও পরেও যে কোনো সময় বার্ন ইনস্টিটিউটে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন। যদি তাদের কোনো অস্ত্রোপচারের দরকার হয়, সেটাও তারা এখানে এসে করাতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে অনুশীলনের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের ওপর বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকসহ এ পর্যন্ত মোট ৩৬ জন মারা গেছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আলিয়ার দেয়ালে গ্রাফিতি: বিচারের দাবিতে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা

৯৯ দিন পর হাসপাতাল ছাড়ল মাইলস্টোনের দগ্ধ শিক্ষার্থী নাভিদ

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. নাভিদ নেওয়াজের শরীরের ৪৫ শতাংশই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সেই ভয়াবহ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজন শিক্ষার্থীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই শিক্ষার্থীর নাম মো. নাভিদ নেওয়াজ, বয়স ১২। টানা ৯৯ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ার পর তাকে সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাভিদ মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। নাভিদের বাবা ইকবাল হোসেন, তাদের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়। পরিবারটি এখন ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকে।

নাভিদকে নিয়ে এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলো। তবে এখনও সেখানে পাঁচজন ভর্তি আছেন। এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শুধু এই হাসপাতালেই ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মো. নাভিদ নেওয়াজ নামের এই ছাত্রটির শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই সোমবার দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে রিলিজ দেওয়া হলো।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখনও পাঁচজন আমাদের এখানে চিকিৎসাধীন আছেন। সবার অবস্থাই ভালোর দিকে। আশা করছি, ইনশাল্লাহ তারাও খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। আর যাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তারাও পরেও যে কোনো সময় বার্ন ইনস্টিটিউটে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন। যদি তাদের কোনো অস্ত্রোপচারের দরকার হয়, সেটাও তারা এখানে এসে করাতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে অনুশীলনের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের ওপর বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকসহ এ পর্যন্ত মোট ৩৬ জন মারা গেছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।