কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠারোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অবশেষে দুই দশকের দখলদারিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে প্রতি বুধবার গরুর হাট বসানোর কারণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছিল। অবশেষে বুধবার এক বিশেষ যৌথ অভিযানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এই হাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে প্রতি বুধবার বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট বসার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল। হাটের দিন তীব্র শব্দ, নোংরা পরিবেশ এবং বহিরাগতদের আনাগোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারত না। ফলে বুধবার বিদ্যালয়টিতে নামেমাত্র পাঠদান চলত।
বুধবার দুপুরে যখন বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি যৌথ বাহিনী আকস্মিকভাবে অভিযান চালায়। এই অভিযানে হাটের ব্যবসায়ীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এখানে আর হাট বসানো যাবে না মর্মে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর বিদ্যালয়ের মাঠ দখলমুক্ত হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
অভিযান শেষে নিকলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত জানান, আঠারোবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গরুর হাট বসানোর দায়ে আনোয়ার উদ্দীন ও পি. আব্দুল মজিদ নামের দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে, হাটের মূল ইজারাদার জমশেদ আলীকে অভিযানে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এই উচ্ছেদ অভিযানটি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















