মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৫৪ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গভীর সংকটে, উত্তরণে চাই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন আমূল রূপান্তর। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিভিন্নমুখী চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শনিবার রাজধানীর এফডিসি মিলনায়তনে ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ফাহমিদা খাতুন এই মন্তব্য করেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আদায়, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুদ্রা খাতে ঝুঁকি, বিপুল পরিমাণ ঋণ, জ্বালানি খাতের চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিকে মসৃণ পথে চালিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) পর বাংলাদেশের সামনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এই উত্তরণ নিঃসন্দেহে অর্থনীতির জন্য এক ইতিবাচক মাইলফলক হলেও, পরবর্তী সময়ের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার একটি বড় কর্মযজ্ঞ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত সরকারের সামনে অন্যতম প্রধান কাজ হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দ্বার উন্মোচন করা।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর একটি রূপরেখা দিয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলো এর অংশ। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।

সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত মুদ্রানীতি এবং কঠোর রাজস্ব শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উপর তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, সুদের হার নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ সরকারি ব্যয়—এই তিনটি বিষয়কে একযোগে কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমেই চাহিদা-জনিত চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক দৌলত আখতার মালা, সাংবাদিক জাকির হোসেন, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ এবং সাংবাদিক রেফাত উল্লাহ মীরাব বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবার মামলা, আসামি অজ্ঞাত

31 October 2026

মাদকাসক্তি রোধে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গভীর সংকটে, উত্তরণে চাই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা

হালনাগাদ সময় : ০৫:৪৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন আমূল রূপান্তর। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বিভিন্নমুখী চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

শনিবার রাজধানীর এফডিসি মিলনায়তনে ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ফাহমিদা খাতুন এই মন্তব্য করেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আদায়, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুদ্রা খাতে ঝুঁকি, বিপুল পরিমাণ ঋণ, জ্বালানি খাতের চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অবস্থায় অর্থনীতিকে মসৃণ পথে চালিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ থেকে উত্তরণের (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন) পর বাংলাদেশের সামনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এই উত্তরণ নিঃসন্দেহে অর্থনীতির জন্য এক ইতিবাচক মাইলফলক হলেও, পরবর্তী সময়ের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার একটি বড় কর্মযজ্ঞ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত সরকারের সামনে অন্যতম প্রধান কাজ হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দ্বার উন্মোচন করা।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর একটি রূপরেখা দিয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলো এর অংশ। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।

সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত মুদ্রানীতি এবং কঠোর রাজস্ব শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উপর তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, সুদের হার নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ সরকারি ব্যয়—এই তিনটি বিষয়কে একযোগে কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমেই চাহিদা-জনিত চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক দৌলত আখতার মালা, সাংবাদিক জাকির হোসেন, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ এবং সাংবাদিক রেফাত উল্লাহ মীরাব বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

Share this news as a Photo Card