দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতার সঙ্গে অবিরাম লড়াই করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. শাহানাজ আক্তার। তবে চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে তার এই সুবর্ণ সুযোগ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বকশীগঞ্জ এলাকার এক অতি দরিদ্র পরিবারে শাহানাজের জন্ম। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় গভীর মনোযোগ এবং অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। অভাব-অনটনের পাহাড় ডিঙিয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়েছেন। ২০২৩ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে তিনি ২০০ টাকা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় রশিদও সংগ্রহ করেছেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি, হল জীবনের খরচ, প্রয়োজনীয় বইপত্র কেনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানো শাহানাজের পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ভর্তি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে শাহানাজ এবং তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহানাজের বাবা মো. সাহাবুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে সামান্য আয় করেন। অন্যদিকে, শাহানাজের মা স্বপনা বেগম বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসারের খরচে কিছুটা সহায়তা করেন। তাদের এই সীমিত আয় দিয়ে কোনোমতে সংসার চললেও, মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার বিপুল ব্যয় বহন করা তাদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
শাহানাজ আক্তার বলেন, “অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু টাকার অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তবে আমার এতদিনের সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে।”
তার মা স্বপনা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে শুনে আমরা খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন টাকার চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। কেউ যদি একটু এগিয়ে এসে সাহায্য করতেন, তাহলে আমার মেয়েটা তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা শাহানাজের মেধা ও পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অর্থের অভাবে এমন একজন সুযোগসন্ধানী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে তা সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তারা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসেন। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সঠিক সুযোগ পেলে শাহানাজ একদিন নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে কেবল পরিবারের নয়, দেশের মুখও উজ্জ্বল করবে।
রিপোর্টারের নাম 





















