কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন নির্বাচন কমিশনে অবৈধ ঘোষণার পর উচ্চ আদালতেও তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির সমর্থকরা এটি সহজে মেনে নিতে পারছেন না। একসময়ের বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটি বর্তমানে নির্বাচনী উত্তাপ হারাতে শুরু করেছে।
দেবিদ্বার আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়ার পর জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী এবং এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চল মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাবেক চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি ছিলেন এই এলাকার একজন পরীক্ষিত, বর্ষীয়ান ও প্রভাবশালী নেতা। তাঁর নেতৃত্বে এই অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল, যা দেবিদ্বারে বিএনপির একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সহায়ক হয়েছিল। তবে, ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। উচ্চ আদালতে আপিল করেও তিনি তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এই ঘটনাটি এই আসনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে কার্যত শেষ করে দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন, এটি কেবল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নয়, বরং দেবিদ্বারের ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি গভীর চক্রান্ত। এর ফলে, হতাশা, ক্ষোভ এবং নীরব প্রতিবাদের এক আবহে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই নিষ্প্রাণ হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমাদের প্রার্থী সব শর্ত মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। কিন্তু একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি আজ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা চেম্বার আদালতে আপিল করেছি এবং আশা করি, সেখানে আমাদের প্রার্থিতা ফিরে পাবো। আমরা শতভাগ বিশ্বাস করি, যদি আমাদের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।”
রিপোর্টারের নাম 





















