১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রণা। গতকাল বুধবার সারা দেশের ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থীরা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মোট ২০ দিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এবারের নির্বাচনে প্রচারের পদ্ধতিতে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন, যেখানে পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, এবারই প্রথম সারা দেশে পোস্টার টাঙিয়ে প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া জনসভায় ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহার, আলোকসজ্জা এবং পিভিসি বা পলিথিন মোড়ানো ব্যানারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থীরা প্রতিটি আসনে সর্বোচ্চ ২০টি ডিজিটাল বা সাধারণ বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল প্রচারে স্বচ্ছতা আনতে প্রার্থীদের তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইল সংক্রান্ত তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কারো চেহারা বিকৃত করা, ভুয়া ভিডিও বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর পিরোজপুর-১ আসনে সরাসরি দ্বিমুখী লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। নির্বাচনি এলাকায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখা এবং ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম বা প্রতীক ব্যবহার না করার মতো নির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবে বিশেষ সেল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি গুরুতর অপরাধে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করছে কমিশন। আজ থেকেই প্রার্থীরা এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের লড়াই শুরু করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























