২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের জন্য একটি আদর্শ ও উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই এখন সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব। এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সম্পন্ন করে নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক অর্জনে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে ‘চূড়ান্ত পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আজ থেকেই আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। নির্বাচনের দিন যেন কোথাও কোনো ধরনের ঘাটতি বা গলদ না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই হবে সর্বোচ্চ এবং সব সংস্থাকে সেই অনুযায়ী সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এবারের নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, দেশের ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ সদস্যের একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি (প্রায় ৬২.৪ শতাংশ) উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সভায় সশস্ত্র বাহিনীকে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’ হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার ফলে প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে ড্রোন ও আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























