বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটিতে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) ভারতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকি এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় মিশনগুলোর সামনে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পিটিআই-এর বরাতে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় অবস্থিত হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের (ডিপেনডেন্টস) ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে—যা সাধারণত কোনো অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়লে করা হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভারতের এমন ‘নো-চিলড্রেন’ বা ‘নন-ফ্যামিলি’ নীতিমালা কার্যকর রয়েছে।
নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কর্মকর্তাদের পরিবার ফিরিয়ে নেওয়া হলেও বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর আগের মতোই খোলা থাকবে। হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোর পূর্ণ জনবল নিয়োজিত থাকবে এবং দৈনন্দিন কনস্যুলার বা কূটনৈতিক সেবা প্রদান ব্যাহত হবে না। একে একটি ‘রুটিন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার সাথে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোনো পরিবর্তনের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে এই পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ভারত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতীয় মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচনের আগের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে এই ‘ইভাকুয়েশন’ বা প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঠিক কত দিনের জন্য ফিরে যাচ্ছেন বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কবে নাগাদ ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 




















